কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর আমির সালাউদ্দিন সালেহিন-এর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক ব্যানার্জির আশ্রয়ে আছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন বাংলাদেশের ইংরাজি সাপ্তাহিক পত্রিকা ব্লিটজ-এর সম্পাদক সালদা উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী । আজ শনিবার বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের ঠিক কয়েক ঘন্টা আগে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এই বোমা ফাটিয়েছেন তিনি । অভিষেক ব্যানার্জি ও ওই সন্ত্রাসবাদীর ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, “জেএমবি ও অভিষেক ব্যানার্জীর মধ্যে যোগসূত্র!
একটি সূত্র অনুযায়ী, কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর আমির সালাউদ্দিন সালেহিন, যিনি সুন্নি, হাফিজুর রহমান শেখ ও মাহিনের মতো বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করেন, ২০১৪ সালে বাংলাদেশের কারাগার থেকে পালিয়ে আসার পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক ব্যানার্জীর আশ্রয়ে রয়েছেন। এই সন্ত্রাসী সংগঠনটির ২৪ পরগনাসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক স্লিপার সেল রয়েছে।”
https://x.com/i/status/2052826281121915287
প্রসঙ্গত,বাংলাদেশের নাগরিক সালাউদ্দিন সালেহিন বাংলাদেশের ফাঁসির আসামি । খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলাতেও সে অভিযুক্ত। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে বেঙ্গালুরুতে সে অল্পের জন্য কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাদের হাত ফস্কে পালায়। তার পর থেকে আর সালাউদ্দিনের হদিস পাওয়া যায়নি । শোয়েব চৌধুরী দাবি করেছেন,”সালাউদ্দিন এখন পশ্চিমবঙ্গে আছে ।” তবে অভিষেক ব্যানার্জির কোন আশ্রয়ে ওই কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী আছে তা তিনি স্পষ্ট করেননি ।
সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর আমির সালাউদ্দিন সালেহিন-কে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছে ভারতীয় গোয়েন্দারা । আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন এডিশনে প্রকাশিত ২০১৭ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে বেঙ্গালুরুতে সে অল্পের জন্য কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাদের হাত ফস্কে পালায়। তার পর থেকে আর সালাউদ্দিনের হদিস পাওয়া যায়নি । জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র এক সূত্রের দাবি যে, সালাউদ্দিন দক্ষিণ ভারতের কোথাও আত্মগোপন করে আছে । তবে সেটা কোথায়, তাঁরা নির্দিষ্ট ভাবে জানতে পারছেন না। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, সালাউদ্দিন সালেহিনই এখন জেএমবি (জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ)-র আমির তথা সর্বময় প্রধান। জুলাইয়ে হাতকাটা নাসিরুল্লা ধরা পড়ার পরে কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) ও এনআইএ-র অফিসাররা বাংলাদেশে গেলে সে দেশের পুলিশ জানায়, সালাউদ্দিনকে হাতে পাওয়াটা তাদের পক্ষে জরুরি। বাংলাদেশে সে ফাঁসির আসামি। আবার ভারতে খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলাতেও সে অভিযুক্ত।
জেএমবি-র ছ’জন পাণ্ডা ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে কলকাতা পুলিশের এসটিএফের হাতে ধরা পড়ে। তাদের জেরা করে সালাউদ্দিনের বেঙ্গালুরুর একটি ডেরার সন্ধান পাওয়া যায়। তবে গোয়েন্দারা সেখানে পৌঁছনোর ঠিক আগে সালাউদ্দিন পালিয়ে যায়। এনআইএ-র দাবি, সালাউদ্দিনের সঙ্গে রয়েছে খাগড়াগড় বিস্ফোরণ মামলার আর এক অভিযুক্ত, বীরভূমের নানুর এলাকার যুবক মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে তুহিন এবং সে-ই সালাউদ্দিনের লুকিয়ে থাকার বন্দোবস্ত করে দিচ্ছে ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনআইএ-র এক কর্তার কথায়, ‘‘সালাউদ্দিনকে ধরা না-গেলে ভয় শুধু আমাদেরও।’’ তাঁর ব্যাখ্যা, গত বছর সেপ্টেম্বরে জেএমবি-র ছ’জনকে গ্রেফতার করার পর কলকাতা পুলিশ জেনেছিল, তারা উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে নাশকতা ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিল। তবে গোয়েন্দাদের দাবি, সালাউদ্দিন অধরা থাকা মানে এখানে নাশকতার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।
ভারতীয় গোয়েন্দাদের ভাবিয়ে তুলেছে ‘সাহম আল হিন্দ’ নামে সন্ত্রাসবাদী বার্তা প্রচারের একটি ওয়েবসাইট ও চ্যানেলকে দেওয়া সালাউদ্দিনের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার।
জুলাইয়ে প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে সালাউদ্দিনের ইঙ্গিত, ভারতে জেএমবি সাংগঠনিক প্রচার ও একই সঙ্গে বিভিন্ন নাশকতা ঘটানোর পরিকল্পনা করেছে। ভারতকে সে ওই সাক্ষাৎকারে ‘হিন্দুস্থান’ নামে উল্লেখ করেছে। সালাউদ্দিন ওই সাক্ষাৎকারে দাবি করেছে— তাদের কার্যকলাপ বাংলাদেশে শুরু হয় বলে গোড়ায় সংগঠনের নাম ছিল ‘জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ’ বা জেএমবি। পরবর্তী কালে ভারতে সংগঠনের শাখা তৈরি হয় জেএমআই বা ‘জামাতুল মুজাহিদিন ইন্ডিয়া’ নাম দিয়ে। সালাউদ্দিনের দাবি, এখন তাদের সংগঠন আরও কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে যাওয়ায় মূল সংগঠনের নাম বদলে হয়েছে জেএম।
এনআইএ-র এক কর্তার কথায়, ‘‘সালাউদ্দিন এখন তামিলনাড়ু বা কেরলের কোথাও আছে। কর্নাটকের একটি ডেরার হদিস কলকাতা পুলিশ জেনে যাওয়ায় সে আর ওই রাজ্যে যাচ্ছে না। তবে শোয়েব চৌধুরীর এই দাবি রাজ্য রাজনীতিতে যে তোলপাড় ফেলবে এটা স্পষ্ট ।।
