শনি বজ্রপঞ্জর কবচ (Shani Vajrapanjara Kavacham) হলো হিন্দু ধর্মে শনিদেবের অশুভ প্রভাব, সাড়ে সাতি, এবং ধাইয়া থেকে সুরক্ষার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী কবচ বা স্তোত্র। এটি ব্রহ্মাণ্ড পুরাণে বর্ণিত এবং ব্রহ্মা-নারদ আলোচনার মাধ্যমে উৎপন্ন। এই কবচ পাঠে কর্মফলের নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস পায়, মানসিক শান্তি আসে এবং অভাব-অনটন দূর হয়।
শনিদেবের নীলবর্ণ, চার হাত বিশিষ্ট ও গৃধ্র (শকুনের) ওপর উপবিষ্ট রূপ ধ্যান করে স্তোত্র শুরু হয়।
ব্রহ্মা বর্ণিত এই কবচে শনিদেবকে সূর্যপুত্র, ছায়াপুত্র, যমানুজ, এবং মন্দগতি সম্বোধনে শরীরের প্রতিটি অঙ্গের (নেত্র, কর্ণ, নাসা, বক্ষ, নাভি ইত্যাদি) রক্ষার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে।
কথিত আছে, নিয়মিত এই দিব্য কবচ পাঠ করলে শনিদেব প্রীত হন এবং সাড়ে সাতি, ধাইয়া বা অষ্টমে শনি অবস্থান করলেও কোনো পীড়া হয় না।
নীলাম্বরো নীলবপুঃ কিরীটী
গৃধ্রস্থিতাস্ত্রকরো ধনুষ্মান্ ।
চতুর্ভুজঃ সূর্যসুতঃ প্রসন্নঃ
সদা মমস্যাদ্বরদঃ প্রশান্তঃ ॥
ব্রহ্মা উবাচ ।।
শৃণুধ্বং ঋষয়ঃ সর্বে শনি পীড়াহরং মহত্ ।
কবচং শনিরাজস্য সৌরৈরিদমনুত্তমম্ ॥
কবচং দেবতাবাসং বজ্র পঞ্জর সংংগকম্ ।
শনৈশ্চর প্রীতিকরং সর্বসৌভাগ্যদায়কম্ ॥
অথ শ্রী শনি বজ্র পঞ্জর কবচম্
ওং শ্রী শনৈশ্চরঃ পাতু ফালং মে সূর্যনন্দনঃ । [ভালং]
নেত্রে ছায়াত্মজঃ পাতু পাতু কর্ণৌ যমানুজঃ ॥১॥
নাসাং বৈবস্বতঃ পাতু মুখং মে ভাস্করঃ সদা ।
স্নিগ্ধকংঠশ্চ মে কংঠং ভুজৌ পাতু মহাভুজঃ ॥২॥
স্কংধৌ পাতু শনিশ্চৈব করৌ পাতু শুভপ্রদঃ ।
বক্ষঃ পাতু যমভ্রাতা কুক্ষিং পাত্বসিতস্তথা ॥৩॥
নাভিং গ্রহপতিঃ পাতু মন্দঃ পাতু কটিং তথা ।
ঊরূ মমাংতকঃ পাতু যমো জানুয়ুগং তথা ॥৪॥
পাদৌ মংদগতিঃ পাতু সর্বাঙ্গং পাতু পিপ্পলঃ ।
অঙ্গোপাংগানি সর্বাণি রক্ষেন্ মে সূর্যনন্দনঃ ॥৫॥
ফলশ্রুতিঃ
ইত্য়েতত্কবচং দিব্যং পঠেত্সূর্যসুতস্য যঃ ।
ন তস্য জায়তে পীড়া প্রীতো ভবতি সূর্যজঃ ॥
ব্যয়জন্মদ্বিতীযস্থো মৃত্যুস্থানগতোপিবা ।
কলত্রস্থো গতোবাপি সুপ্রীতস্তু সদা শনিঃ ॥
অষ্টমস্থো সূর্যসুতে ব্যয়ে জন্মদ্বিতীয়গে ।
কবচং পঠতে নিত্যং ন পীড়া জায়তে ক্বচিত্ ॥
ইত্য়েতত্কবচং দিব্যং সৌরের্যন্নির্মিতং পুরা ।
দ্বাদশাষ্টমজন্মস্থদোষান্নাশয়তে সদা ।
জন্মলগ্নস্থিতান্ দোষান্ সর্বান্নাশযতে প্রভুঃ ॥
।। ইতি শ্রী ব্রহ্মাণ্ডপুরাণে ব্রহ্মনারদসংবাদে শনিবজ্রপঞ্জর কবচং সংপূর্ণম্ ॥
পাঠের নিয়ম ও উপকারিতা:
নিয়ম: প্রতিদিন বা বিশেষ করে শনিবার স্নান সেরে শুদ্ধ চিত্তে এটি পাঠ করা শ্রেয়।
উপকারিতা: এই স্তোত্র পাঠে আয়ু, স্বাস্থ্য, ধন-সম্পত্তি ও দীর্ঘদিনের বাধা দূর হয়ে সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায়।
