এইদিন ওয়েবডেস্ক,কোচবিহার,১৪ আগস্ট : নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর মন্তব্যের জেরে মধ্যরাতের অভিযানে বিজেপি সাংসদ নগেন রায় তথা অনন্ত মহারাজের তিন অনুগামীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ । বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে কোচবিহার-১ ব্লকের পাটছড়া থেকে পিন্টু রায় এবং পানিশালা থেকে কৃষ্ণ কার্জিকে পাকড়াও করে কোতোয়ালি থানার পুলিশ । একই সময়ে নিশিগঞ্জ ফাঁড়ি কোচবিহার শহর থেকে নিশিগঞ্জ নিশিময়ী হাইস্কুলের শিক্ষক উত্তম বর্মনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই গ্রেপ্তার। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ।
এদিকে তুমুল গনরোষের মুখে পড়ে নেতাজী সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য স্বঘোষিত “মহারাজ” নগেন ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে । তবে তিনি লিখিত বয়ান পাঠ করে ফের ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ । এই বিষয়ে হিরন্ময় গোস্বামী বলেছেন, ‘অনিচ্ছাকৃত নেতাজীকে অপমান না ইচ্ছাকৃত সেটা স্ক্রিপ্ট দেখলেই বোঝা যায় , আমরা চাই বিনা স্ক্রিপ্টে নেতাজি সম্পর্কে নগেন রায় তিনি নেতাজি কে যতটাই অসম্মান করেছেন, তার মুখে ততটাই সম্মান প্রশংসা শুনতে চাই নতুবা এনার বিরুদ্ধে আমি নিজে মামলা করবো।’
এই সমগ্র বিতর্ক সৃষ্টির মূল কারিগর নগেন রায় । নেতাজিকে নিয়ে নগেনের বিতর্কিত মন্তব্যের শুরু হয়েছিল কোচবিহার জেলা থেকেই। দিনহাটায় গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের সভায় যোগ দেওয়ার পর নগেন প্রথম নেতাজিকে নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য করেন। এরপর তার অনুগামীরাও সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক মন্তব্য করতে থাকেন। শুধু ভিডিও তৈরি বা লেখালিখিই নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়ে নেতাজির একাধিক কুরুচিকর ছবি তৈরি করে সেগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়।
কিন্তু নগেন এখনও অধরা থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। দাবি উঠছে তাকে গ্রেপ্তারের। বলে পুলিশ জানিয়েছে।নেতাজিকে নিয়ে প্রথমে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন নগেন। সেই মূল অভিযুক্ত নগেন এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ দানা বাঁধছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন নেতাজি ইস্যুতে কোনও অভিযুক্তকেই রেহাই দেওয়া হবে না ।
ইতিমধ্যেই নেতাজি ইস্যুতে নগেনের ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান কেড়ে নিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে এতেই সন্তুষ্ট না হয়ে নগেনকে গ্রেপ্তার করে তাঁর সাংসদ পদ খারিজ করার দাবিতে সরব হয়েছেন বহু মানুষ।।
