এইদিন ওয়েবডেস্ক,কেতুগ্রাম(পূর্ব বর্ধমান),২১ মে : পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম বিধানসভার প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শেখ সাহনাওয়াজের ঘনিষ্ঠ এক তৃণমূল নেতাসহ ৩ জনকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ পাকড়াও করেছে পুলিশ ৷ বুধবার রাতে কেতুগ্রামের আননা মোড় থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় । পুলিশ ধৃতদের মহম্মদ জাহাঙ্গির, হাবু মাঝি এবং আজিজুল ইসলাম ওরফে পরাগ নামে চিহ্নিত করেছে৷ ধৃতদের প্রত্যেকের বাড়ি কেতুগ্রাম থানার রাইখা গ্রামে । ধৃতদের কাছ একটি ৭ এম এম পিস্তল এবং ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ । আজ বৃহস্পতিবার ধৃতদের কাটোয়া মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক মহম্মদ জাহাঙ্গীরকে চারদিনের জন্য পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। বাকি দুজনকে ১৪ দিনের জন্য জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে,ধৃত মহম্মদ জাহাঙ্গীর কেতুগ্রামের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শেখ সাহনাওয়াজের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত । সাহনাওয়াজের সাথে একাধিকবার দেখা গেছে । পুলিশের খাতায় একজন দাগি আসামি বলে চিহ্নিত মহম্মদ জাহাঙ্গীর । তার বিরুদ্ধে খুন সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে মামলা চলছে । এমনকি ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে কেতুগ্রাম ১ পঞ্চায়েত সমিতির তৎকালীন তৃণমূল সভাপতি জাহির শেখকে গুলি করে খুনের ঘটনায় প্রধান আসামি এই জাহাঙ্গীর । আপেল শেখ নামে এক ব্যক্তিকে খুনের ঘটনাতেও আসামি সে ।
স্থানীয় সূত্রে খবর,বিধায়কের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এলাকায় অপরাধমূলক কাজকর্ম চালাত মহম্মদ জাহাঙ্গীর । কিন্তু তৃণমূল বিধায়কের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় পুলিশ না দেখার ভান করে থাকত বলে অভিযোগ । স্থানীয় বাসিন্দারাও খুন হয়ে যাওয়ার ভয়ে মুখ খুলতেন না । তবে পুলিশ প্রাক্তন শাসকদলের কোপে পড়ার ভয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকলেও ওই কুখ্যাত দুষ্কৃতীর উপর সর্বদা নজর রেখে দিত । আর রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর “ভয় আউট ভরসা ইন” শ্লোগানে ভরসা পেয়ে কেতুগ্রাম পুলিশ তক্কেতক্কে ছিল।
জানা গেছে,বুধবার রাতে পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায় যে কুমোরপুর -চাকটা রোডে আননা মোড়ের কাছে মহম্মদ জাহাঙ্গীর এবং তাঁর ওই দুই সাকরেদ ফের কোনো অপরাধ সংঘটিত করার জন্য জড়ো হয়েছে ৷ খবর পেতেই পুলিশের একটা দল সেখানে হানা দেয় । তারপর আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেপ্তার করা হয় ওই ৩ জনকে ।।
