প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,০২ জুন : বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই কার্যত আত্মগোপন করে ছিলেন। তাতেও শেষ রক্ষা হয় নি। সরকারী ত্রাণ সামগ্রী নিজের বাড়িতে মজুত করে রাখার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে পাকড়াও হলেন পূর্ব বর্ধমানের কালনার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগ। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে নাদনঘট থানার পুলিশ সোমবার গভীর রাতে দেবপ্রসাদ বাগকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার কোমরে দড়ি পরিয়ে পুলিশ তাঁকে কালনা মহকুমা আদালতে নিয়ে গিয়ে পেশ করে।
একই ভাবে সরকারী ত্রাণ সামগ্রী বিলি বন্টন না করে পার্টি অফিসে কুক্ষিগত করে রাখার মামলায় একদিন আগেই গ্রেপ্তার হয়েছেন কালনা ২ নম্বর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি প্রণব রায়। সরকারী ত্রাণ সামগ্রী বিলি বন্টন না করে বাড়িতে মজুত করে রাখার পিছনে কি উদ্দেশ্য ছিল প্রাক্তন বিধায়কের তা জানতে পুলিশ জোরদার তদন্ত চালাচ্ছে।
কালনার দুপুটে তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগকে নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের পারদ অনেক দিন আগেই চড়েছিল। তার প্রাসাদোপম বাড়ি ও বিলাশবহুল জীবন কাটানোর আর্থিক উৎস নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন কম ছিল না। কিন্তু তখন তৃণমূল বাংলার শাসন ক্ষমতায় থাকায় এলাকাবাসী সে ভাবে মুখ খোলার সাহস পাননি। তবে ২০২৬ শের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবি ঘটতেই দেবপ্রসাদ বাগের বিরুদ্ধে জনমত এককাট্টা হতে শুরু করে।

এই অবস্থার মধ্যেই সোমবার রাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ দেবপ্রসাদ বাগের বাড়ির ঘিরে ফেলতেই তাই শয়ে শয়ে স্থানীয় মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে যান। তার দেবপ্রসাদ বাগকে উদ্দেশ্য করে “চোর চোর” শ্লোগান তোলেন।ওই সময় দেবপ্রসাদের বাড়ির মূল দরজা বন্ধ অবস্থায় ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশ বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করে। অভিযোগ, বাড়ির ভিতরে উপস্থিত থাকলেও প্রাক্তন বিধায়ক দরজা খোলেননি।সময় গড়ানোর সাথে সাথে দেবপ্রসাদের বাড়ির সামনে মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করলে উত্তেজনার পারদ চমমে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।শেষ পর্যন্ত অনেকটা রাতে পুলিশ দেবপ্রসাদ বাগকে বাগে আনতে সক্ষম হয়।
বাড়িতে সরকারী ত্রাণ সামগ্রী মজুত করে রাখা কাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে পূর্বস্থলী উত্তরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধায়ও রেহাই পান নি।তাঁর এখন ঠাঁই হয়েছে শ্রীঘরে। দিন কয়েক আগে পুলিশের তল্লাশিতে তপন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে ৪৫৫টি ত্রিপল, রাজ্য সরকারের প্রচুর ‘জয়ী’ ফুটবল, পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়। সরকারী ত্রাণ সামগ্রী বিলি বন্টন না করে বাড়িতে বা পার্টি অফিসে মজুত করে রাখার অভিযোগে একের পর এক প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও তৃণমূল নেতা বিধায়ক হওয়ার ঘটনা বঙ্গের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।।
