এইদিন ওয়েবডেস্ক,কর্ণাটক,০১ জুলাই : গত ২৯শে জুন, কর্ণাটকের চিক্কাবল্লাপুর জেলার নন্দী পাহাড়ের কাছে একটি হোমস্টের ভেতর থেকে বেঙ্গালুরু- ভিত্তিক একজন হিন্দু মহিলা, যিনি ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে কাজ করতেন, রহস্যজনক পরিস্থিতিতে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হন। একই ঘরে তাঁর প্রেমিক মোহাম্মদ সঞ্জিত আলীকে (Md: Sanjeet Ali) অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।
মৃতার নাম সাই সুরভি (Sai Surabhi)। ২৬ বছর বয়সী ওই তরুনী মুদ্দেনাহাল্লির সত্য সাই হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন এবং বেঙ্গালুরুর বানশঙ্করী এলাকায় থাকতেন। মোহাম্মদ সঞ্জিত আলী কেরালার একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বেঙ্গালুরুতে ক্যাব চালক হিসেবে কাজ করত। আলিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং সে এখন বিপদমুক্ত বলে জানা গেছে।
হোমস্টের কর্মীরা লক্ষ্য করেন যে ওই জুটি নির্ধারিত সময়ে চেক আউট করেননি , এরপরই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। বারবার দরজায় টোকা দেওয়া এবং ফোন করার পরেও কোনো সাড়া না পেয়ে কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়।পুলিশ তালাবদ্ধ দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সুরভীকে মৃত এবং আলীকে অচেতন অবস্থায় পায়। ঘরটি থেকে একটি দড়ি, প্রচুর পরিমাণে ট্যাবলেট, মদের বোতল, একটি বালিশ উদ্ধার করা হয় এবং বমির চিহ্ন দেখা যায় ।
চিক্কাবল্লাপুরের পুলিশ সুপার কুশল চৌকসি বলেছেন, সুরভীর শরীরে দৃশ্যমান কোনো বাহ্যিক বা রক্তক্ষরণের চিহ্ন ছিল না। তদন্তকারীরা হত্যা, ফাঁসিতে ঝোলা এবং বিষপ্রয়োগসহ সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখছেন। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।হাতে লেখা একটি নোটসহ একটি ডায়েরিও উদ্ধার করা হয়েছে, কিন্তু পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি যে এটি কে লিখেছে। আলী সুস্থ হওয়ার পর তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে।
হবে।
আলীর বিরুদ্ধে হত্যা ও হামলার অভিযোগ
সুরভির মা গীতা, আলীর বিরুদ্ধে তাঁর মেয়েকে হত্যার অভিযোগ এনেছেন এবং বলেছেন যে, আলী তাঁর মেয়েকে মারধর ও হয়রানি করেছিল এবং তাঁকে মাদকাসক্ত করে দিয়েছিল। তিনি বলেন, পরিবারটি এর আগেও বানশঙ্করী থানায় আলীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছিল। প্রায় ছয় মাস আগেও সুরভি নিখোঁজ হয়েছিল, যার পরে পরিবারটি আরেকটি অভিযোগ দায়ের করে।
তদন্তকারীদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারের বিরোধিতা সত্ত্বেও সুরভি আলিকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। জানা গেছে, এই যুগল কেরালায় পালিয়ে যাওয়ার পর ফিরে আসে। পরে সুরভি কর্তৃপক্ষকে জানায় যে, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার সঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে।
জানা গেছে, তাদের উপস্থিতিতে একটি পার্টি থেকে মাদক উদ্ধার হওয়ার পর এই জুটির বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনেও মামলা করা হয়েছিল। এরপর সুরভিকে মহীশূরের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি প্রায় ছয় মাস ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন।পুলিশের ধারণা, সুরভি পরে আলীর সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ শুরু করে। সে সম্প্রতি স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার ক্যাম্পাসে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে চিক্কাবল্লাপুরে গিয়েছিল, যার পরে সম্ভবত আলী তাকে অনুসরণ করে হোমস্টেটি বুক করেছিল।নন্দী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে।।
পুলিশ জানিয়েছে, আলি ও সুরভির বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি এনডিপিএস মামলা ছাড়া তার আর কোনো পরিচিত অপরাধমূলক রেকর্ড নেই। তদন্তকারীরা বলেছেন, জ্ঞান ফিরে পেলে সুরভির মৃত্যুর আগের ঘটনাগুলো পুনর্গঠনে তার বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হতে পারে।।

