এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,০৫ আগস্ট : পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে নরসংহারের ঘটনা তুলে ধরায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে শেহবাজ শরিফ সরকার । পাকিস্তান সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেছে সাংবাদিক সংগঠনগুলো । এবারে পাকিস্তানি নাগরিকসহ বিদেশি গণমাধ্যমে কর্মরত যে কাউকে এখন থেকে ইসলামাবাদ, করাচি ও লাহোর শহর ছাড়া অন্য যেকোনো স্থান থেকে সংবাদ পরিবেশনের জন্য অনুমতি নিতে হবে ।
বিবিসি জানিয়েছে,এই বিধিনিষেধের ফলে পাকিস্তানের বেশিরভাগ অংশে বিদেশি গণমাধ্যমের মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের বিবেচনাবোধ ও সময়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে, যে দেশটি বর্তমানে বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫৩তম স্থানে রয়েছে। রাজনৈতিক ভাষ্যকার মোস্তফা নওয়াজ খোখার বলেছেন, ‘এই নির্দেশিকাগুলো ক্রমশ সংকুচিত হতে থাকা পরিসরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শ্বাসরোধ করার শামিল ।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,পাকিস্তানে গণমাধ্যমের ওপর সীমাবদ্ধতা নতুন কিছু নয় , কিন্তু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তুলনায় স্থানীয় গণমাধ্যম প্রায়শই বেশি চাপের সম্মুখীন হয়।খোখার বলেন,’জনগণ নিরপেক্ষ প্রতিবেদনের জন্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দিকে তাকিয়ে থাকে৷ বিধিনিষেধ আরোপ করলে তা কেবল অপতথ্য ও ভুয়া খবর ছড়ানোর আরও সুযোগ তৈরি করে।’
যদিও পাকিস্তান সরকার বলেছে, রবিবার জারি করা এই নির্দেশিকা গণমাধ্যমকে সীমাবদ্ধ করার জন্য নয়, বরং গণমাধ্যমকে যাচাই করতে, প্রবেশাধিকার সহজ করতে এবং প্রতিবেদনের প্রয়োজনীয়তা সমন্বয় করার জন্য একটি “প্রশাসনিক ব্যবস্থা” প্রদানের উদ্দেশ্যে।
এদিকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্রমবর্ধমানের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ৫০ জনেরও বেশি ব্রিটিশ সাংসদ যুক্তরাজ্য সরকারকে চিঠি লিখেছেন। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে অভিযান চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু ও আহত হওয়ার কথা তাঁরা উল্লেখ করেছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।।
