এইদিন ওয়েবডেস্ক,শ্রীনগর,০৩ জুলাই : জম্মু- কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বৃহস্পতিবার বলেছেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংলাপে কারও আপত্তি থাকা উচিত নয়। এখানে একটি অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবদুল্লাহ বলেন, দুই দেশের মধ্যকার সংঘাত নতুন নয় এবং তা গত তিন থেকে চার দশক ধরে চলে আসছে ।তিনি বলেন, “এই সংঘাত ৩০ থেকে ৪০ বছরের পুরনো, এবং গত বছর পাহালগাম হামলার পর তা আরও তীব্র হয়। এখন, একটি চিঠির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। এতে কারও কোনো আপত্তি থাকা উচিত নয়।”
সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড প্রগ্রেস-এর চেয়ারম্যান ওপি শাহের সমন্বয়ে পাঠানো এবং ৬১ জন ভারতীয় ও ৫৫ জন পাকিস্তানির স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে দুই দেশকে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে যেমন রয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা,তেমননি রয়েছে বামপন্থী ও কংগ্রেসের নেতারা । ফলে সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড প্রগ্রেস-এর প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে । যদিও সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড প্রগ্রেস-এর এই উদ্যোগের সমালোচনাকারীদের প্রশ্ন করে আবদুল্লাহ বলেন, আরএসএস-এর শীর্ষ নেতারাও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক উন্নত করার পক্ষে কথা বলেছেন।
আবদুল্লাহ বলেন,“সম্প্রতি আরএসএস-এর একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন যে ভারত ও পাকিস্তানের একে অপরের সঙ্গে কথা বলা উচিত এবং বন্ধু হওয়া উচিত। আরএসএস যখন এ কথা বলে, তখন কেউ আপত্তি করে না, কিন্তু জম্মু ও কাশ্মীরের নেতারা যখন একই কথা বলেন, তখন তা একটি বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।” তিনি বলেন,“আমরা শুধু সেটাই বলছি যা (প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী) বাজপেয়ী বলতেন যে, বন্ধুদের পরিবর্তন করা যায়, কিন্তু প্রতিবেশীদের পরিবর্তন করা যায় না। আমরা চাই প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হোক” ।
জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ এবং মেহবুবা মুফতি সহ ভারত ও পাকিস্তানের শতাধিক বিশিষ্ট নাগরিক ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর পাকিস্তানি প্রতিপক্ষ শাহবাজ শরীফকে দ্বিপাক্ষিক সংলাপ পুনরায় শুরু করতে এবং স্বাভাবিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের জন্য অনুরোধ করেছেন। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন ‘র’ প্রধান এ এস দুলাত, রাজ্যসভা সাংসদ মনোজ ঝা, প্রাক্তন কূটনীতিক আশরাফ জাহাঙ্গীর কাজী, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মণি শঙ্কর আইয়ার, পাকিস্তানের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী খুরশিদ মাহমুদ কাসুরি, এছাড়াও বেশ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা। চিঠিতে উভয় সরকারকে “দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্বাভাবিকতা, সংলাপ এবং সহযোগিতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে অর্থপূর্ণ ও টেকসই পদক্ষেপ” গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।।
