এইদিন ওয়েবডেস্ক,জম্মু-কাশ্মীর,০৩ নভেম্বর : জম্মু ও কাশ্মীরের বিশিষ্ট শিয়া নেতা এবং শ্রীনগরের সাংসদ সৈয়দ আগা রুহুল্লাহ মেহেদী দল ছেড়েছেন। তিনি লোকসভার সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করছেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এ বিষয়ে স্পিকার ওম বিরলাকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা পুনরুদ্ধারসহ নির্বাচনে দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। একটি নতুন দল গঠনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি ।
বুদগামে তার বাবা আগা সৈয়দ মেহেদীর ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে রুহুল্লাহ মেহেদী গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি ২০১০ সালের ছাত্র আন্দোলনে নিহত তুফাইল মাতুর বাবা মুহাম্মদ আশরাফ মাতুর কাছে দল থেকে তার পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন। মেহেদী বলেন যে, তার হাত থেকে এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার মতো যোগ্যতা বা গুণ ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহর নেই। তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, এটি জালিয়াতি ও দুর্নীতিতে পরিপূর্ণ একটি সংগঠন থেকে মুক্তির বার্তা।
মেহেদী দলের সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহ এবং মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ চালান। তিনি অভিযোগ করেন যে, জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া ৩৭০ ধারা পুনরুদ্ধারের লড়াই থেকে তাঁরা দুজনই সরে দাঁড়িয়েছেন। রুহুল্লাহ বলেন, “নির্বাচনের সময় ৩৭০ ধারা পুনরুদ্ধার, বন্দীদের মুক্তি এবং বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে বলে যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি ছিল নির্জলা মিথ্যা। আমি আর এই মিথ্যার অংশ হয়ে থাকতে পারি না।”
মেহেদী বলেন,তিনি ওমর আবদুল্লাহকে একজন অযোগ্য রাজনীতিবিদ হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন, যার তৃণমূল স্তরের বাস্তবতার সাথে কোনো সংযোগ নেই। জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণ বিজেপি এবং আরএসএস-এর করা অবিচার দূর করার জন্য ওমরকে নির্বাচিত করেছিল। কিন্তু তিনি তাদেরই সম্মানিত করেছেন, যারা শাল ছুঁড়ে মানুষের অনুভূতি ও আত্মসম্মানে আঘাত করেছে ।
যদিও কেউ কেউ চান তিনি একটি নতুন দল গঠন করুন, রুহুল্লাহ বলেছেন যে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের আত্মমর্যাদা ও সম্মান পুনরুদ্ধারের জন্য একটি আন্দোলন শুরু করতে বেশি আগ্রহী। ন্যাশনাল কনফারেন্স হয়তো লড়াই ছেড়ে দিয়েছে, কিন্তু আমরা হাল ছাড়িনি। তিনি আরও বলেন, “আমরা একটি গণ-আন্দোলন শুরু করব, যেখানে সৎ মানুষেরা একত্রিত হয়ে আমাদের কাছ থেকে যা কেড়ে নেওয়া হয়েছে তা পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নেতৃত্ব দেবে।”
বিজেপি নেতা রাম মাধবের এই ঘোষণা যে, রুহুল্লাহ দল ছেড়েছেন, পদত্যাগের ঘোষণা করবছেন এবং ‘আমাদের লোকজনের’ আশীর্বাদ নিয়ে একটি সমাবেশ করেছেন, তা ন্যাশনাল কনফারেন্সের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটারই শামিল। মেহেদীর পদত্যাগ এবং দল গঠনের পদক্ষেপকে মন্ত্রিসভার রদবদলের পর ন্যাশনাল কনফারেন্সে সৃষ্ট অস্থিরতার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০ জন বিধায়ক দল ও সরকারের মধ্যে একটি সমাধানের দাবি জানিয়ে নেতৃত্বকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এই সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়ার সময়ই নতুন চ্যালেঞ্জটি এসে দাঁড়িয়েছে।।

