এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৪ আগস্ট : শনিবার প্রশাসন ও পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় ফুটপাত জবরদখল মুক্ত করার অভিযানে গিয়ে পার্ক স্ট্রিটে এক মহিলাকে উনুন জ্বালিয়ে শিশুসন্তানদের দুধ গরম করতে দেখে মেজাজ হারান রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি ফুটপাতে এভাবে সংসার পাতা ও রান্না করা নিয়ে কড়া আপত্তি জানান এবং ফুটপাত ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন । এরপর রবিবার ওই মহিলাকে সমবেদনা জানাতে যান বেলেঘাটার ‘কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস’ বিধায়ক কুণাল ঘোষ । তিনি ফুটপাতবাসীদের প্রতি “মানবিক” হওয়ার জন্য মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে পরামর্শও দেন । আজ সোমবার তার জবাব দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল । তিনি কুণালের নাম না নিয়ে সরাসরি তার দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছেন,”কোনো বাচ্চার মুখের দুধ কেড়ে নেওয়া হয়নি…দুর্ঘটনা হলে কে দায় নেবে ?”
আজ একটি ভিডিও বার্তায় অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “কোনো বাচ্চার মুখের দুধ কেড়ে নেওয়া হয়নি। সরে যেতে বলা হয়েছে। ওভাবে একটা ব্যস্ত রাস্তায় একটা বাচ্চা হামাগুড়ি দিচ্ছে—শুধু ওখানে নয়, এই দৃশ্য কলকাতার অনেক জায়গাতেই দেখা যায়। একটা দুর্ঘটনা যখন-তখন হয়ে যেতে পারে। কে দায় নেবে তার? যারা কাল থেকে মানবিকতার কথা বলছেন, তাঁরা?”
তিনি বলেন,”যে সরকার বছরের পর বছর ধরে ফুটপাথে মানুষদের বসিয়েছেন, কর্মসংস্থান করেননি, শুধু তোলাবাজি, ঘুষ আর যত রকমের দুর্নীতি হয়, সেগুলো করে গেছেন গত ১৫ বছর ধরে—তাঁরা আজ জনদরদী ? ফুটপাথ গরিব বা বড়লোককে আলাদা করে চেনে না। ফুটপাথে যারা হাঁটছেন, তাঁরা সবাই মানুষ। মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের রায়—ফুটপাথকে হাঁটাচলার উপযোগী করে তুলতে হবে। ফুটপাথ মানুষের হাঁটাচলার জন্য, বসবাস করার জন্য নয়।”
মন্ত্রী ‘কালীঘাট তৃণমূল’ ও সিপিএমকে নিশানা করে বলেছেন,”আমি জানি, আমাদের সরকার অনেক বড় ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছে, তাতে বিরোধীদের সমস্যা হওয়ারই কথা। ফুটপাথ থেকে হকার সরাতে গেলে আপনাদের অসুবিধা, অবৈধ পার্কিং সরাতে গেলে আপনাদের অসুবিধা, যারা রীতিমতো ফুটপাথকে বাসস্থান বানিয়ে ফেলেছেন, তাঁদের সরাতে গেলে আপনাদের অসুবিধা। আপনাদের সুবিধা বা অসুবিধা দেখে তো সরকার কাজ করবে না।”
তিনি বলেছেন,”আজ বিনিয়োগের কথা হচ্ছে, নতুন শিল্পপতিদের সঙ্গে কথা হচ্ছে, শিল্প আনার চেষ্টা চলছে। যাঁদের ডাকা হচ্ছে, তাঁরা এসে যদি দেখেন রাস্তাঘাট যানজটে ভরা, রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ, শহরের এই পরিবেশ—তাঁরা কি আসবেন?রাস্তা থেকে ড্রেন, সবকিছু সংস্কারের কাজ চলছে। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত রাস্তা ঠিক করা হবে। ১৫ বছরে বাংলার যে অবস্থা হয়েছে, তা কোনওভাবেই ১০০ দিনে ঠিক করা সম্ভব নয়। এমনটা নয় যে কোনও মন্ত্র বলে সবকিছু হঠাৎ করে ঠিক হয়ে যাবে।”
অগ্নিমিত্রা বলেন,”আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যা যা প্রতিশ্রুতি আমরা করেছি, তা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব আমাদের এবং তা আমরা করব। আশা করি, সাধারণ মানুষ আমার এবং আমাদের সরকারের পাশে থাকবেন।”
পার্ক স্ট্রিট ইস্যুটি ধর্মীয় রঙ দিয়ে গতকাল কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছিলেন,’মহিলা যা বললেন: পাঞ্জাবের মেয়ে। হিন্দু। নাম সীতা। বিয়ে মুসলমানের সঙ্গে, এখন নাম রশিদা। স্বামী চলে যেতে এক ছেলে, দুই মেয়ে নিয়ে অথৈ জলে। ছেলে মারা গেছে। এক মেয়েও স্বামী পরিত্যক্তা। বাড়ি নেই। মেয়ে আর ছোট বাচ্চাকে নিয়ে রাস্তায় ধারেই থাকেন। রাস্তা, ফুটপাথ সাফাই করে দেন। আবর্জনা কোড়ান। আর যাওয়ার জায়গা নেই। মেয়ের অন্য বাচ্চাকে অতীতে পুলিশ কোনো হোমে দিয়ে এসেছিল। দীর্ঘদিন এখানে এভাবেই থাকেন। চারপাশের দোকানের সঙ্গে কোনো ঝামেলা হয় না। কিন্তু মন্ত্রী বলার পর পুলিশ বলেছে সরতে। কোথায় যাবেন, ঠিক নেই। ফুটপাতে কোনো ঝুপড়ি-টুপড়িও নেই। বললেন, এখানে চলতে বাধা নেই। কিন্তু তাড়িয়ে দিলে কোথায় যাব? মহিলার কথা: আমার কাছে ঈশ্বর আল্লা সব এক। কিন্তু আমরা এখন কী করব? কোথায় থাকব? কী খাব?’
.
