এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২৩ অক্টোবর : গত সপ্তাহে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মামলায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে, যা এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনেছে। এতে দেখা গেছে, পুরুষ নজরুল ইসলাম আবদুল বসির অবিবাহিত ছিলেন এবং সাইবার অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, আর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী সিথি আক্তার ব্যভিচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দু’জনকেই ‘লঘু পাপে গুরুদণ্ড’ দেওয়া হয়েছে ।
গত ১৪ অক্টোবর, বুধবার, মক্কা অঞ্চলে একটি মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজ’ করার অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এই অভিযোগটি সেই পৃথক অপরাধগুলো থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন, যেগুলোর জন্য ২০২৩ সালের আগস্টে তাদের প্রাথমিকভাবে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ১৮ অক্টোবর তারিখের একটি গোপনীয় মেমো অনুসারে এই তথ্য জানা গেছে। ডেইলি স্টারের হাতে আসা এই মেমোটি ঘটনার ক্রম সম্পর্কে আলোকপাত করেছে। তাতে বলা হয়েছে যে,৩০শে সেপ্টেম্বর কনস্যুলেট একটি বন্দি তালিকা পায়। নজরুলকে ২০২৩ সালের ১লা আগস্ট সৌদি আরবের সাইবার অপরাধ আইনের অধীনে আটক করা হয়। পরদিন, ২রা অক্টোবর, সিথি আখতারকে ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয়। দুজনেই সৌদি আরবে আল মাজাল কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তাদেরকে আলাদা আলাদা কারাগারে রাখা হয়েছিল। নজরুলকে জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সিথিকে জেদ্দা মহিলা কারাগারে।
কনস্যুলার মেমোতে বলা হয়েছে যে, এই দুই ব্যক্তির কোনো এন্ট্রিতেই মৃত্যুদণ্ডের উল্লেখ ছিল না, অথচ সৌদি কর্তৃপক্ষ ১৪ই অক্টোবর তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘোষণা করে । সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মক্কার একটি মসজিদের ভেতরে একটি “অনৈতিক কাজ”-এর জন্য তাদের দুজনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, যে অভিযোগটি পূর্ববর্তী অভিযোগগুলোর সাথে সম্পর্কিত করে কনস্যুলার রেকর্ডে ব্যাখ্যা করা হয়নি। কনস্যুলেট আরও উল্লেখ করেছে যে, সাইবার অপরাধ বা ব্যভিচারের জন্য সৌদি আরবে কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, এমন কোনো পূর্ব তথ্য তাদের কাছে ছিল না।
২০২২ সালের নভেম্বরে নজরুল সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। নজরুলের মা রহিমা বেগমের ভাষ্যমতে, “তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর আমরা শুনছি যে অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা ওই মহিলাকে চিনি না। নজরুলও তার সম্পর্কে আমাদের কখনো কিছু বলেনি। যদি সে তাকে বিয়ে করত, আমরা অবশ্যই জানতে পারতাম।” তিনি আরও বলেন যে, নজরুল জেল থেকে মাঝে মাঝে ফোন করত এবং তাদের শেষ কথা হয়েছিল ১১ অক্টোবর, তার ফাঁসির মাত্র তিন দিন আগে।
এদিকে, সুইটি আখতার দেড় লাখ টাকা ধার করে চাকরির জন্য সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তার বাবা ফজল মিয়া স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, সুইটি একদিন ফোন করে জানায় যে কর্মক্ষেত্রে বিবাদের জেরে তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, সুইটি সম্প্রতি কয়েক মাসের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনার কথাও বলেছিল। তার ফাঁসির খবরে পরিবারটি পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে গেছে।।

