এইদিন ওয়েবডেস্ক,কক্সবাজার,২২ এপ্রিল : তিন দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বাংলাদেশের কক্সবাজারের খুরুশকুল ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় মন্দিরের সেবায়েত নয়ন সাধুর নগ্ন আধপোড়া ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল জঙ্গলের একটি গাছ থেকে । মৃতদেহ থেকে স্পষ্ট প্রমান মিলেছে যে হত্যার আগে নৃশংস বর্বরোচিত ভাবে অত্যাচার চালানো হয়েছিল ওই সর্বত্যাগী সন্নাসীর উপর । স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ সন্নাসীর দেহটি দেখে কার্যত আঁতকে ওঠেন । এই ঘটনাটি শুধু একটি সাধারণ হত্যাকাণ্ড নয়, বরং এর ধরন ও প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
জানা যায়, নয়ন সাধু গত ১৯ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। সেদিন তাকে কেউ ডেকে নিয়ে যায় । তার পর আর তিনি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের পর থেকেই এলাকায় উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয় ।
অবশেষে আজ বুধবার(২২ এপ্রিল) সকালে খুরুশকুলের দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গলে স্থানীয়রা একটি গাছের ডালের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তার দেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন । দেহটি নগ্ন ও আধপোড়া অবস্থায় ছিল। পরে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায় । দেহটি এতটাই বিকৃত হয়ে গিয়ছিল যে গলায় থাকা রুদ্রাক্ষের মালা দেখেই তার পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয় ।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ে মন্দির নির্মাণ ও জমি নিয়ে কিছু ইসলামি ভূমিদস্যু চক্রের সঙ্গে নয়ন সাধুর বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছেন তারা । যদিও এই বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ।
একজন সর্বত্যাগী সন্নাসীকে অপহরণ করে হত্যা এবং পরে মৃতদেহের প্রতি এমন অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এ ঘটনায় শুধু শোক বা নিন্দা প্রকাশ নয়, বরং দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ চলছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে । পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিরোধ ও সম্ভাব্য কারণগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ।।
