এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৬ এপ্রিল : আগামী ২৯ শে এপ্রিল রাজ্যের দ্বিতীয় দফার ভোট । এই দফায় যে কেন্দ্রটির দিকে গোটা দেশের নজর, সেটা হল কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা । কারন,২০২১ এত পর এখানে ফের এবার মুখোমুখি হচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । ফলে ভবানীপুরেও রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরমে । গতকাল সন্ধ্যায় তারই প্রতিফলন দেখা গেলো । মাইক-সংঘাতের জেরে মাত্র সাড়ে চার মিনিটেই সভামঞ্চ ছেড়ে নেমে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়া রোডের (উত্তর) যেখানে মমতা সভা করছিলেন,ঠিক তার পাশেই সভা করছিলেন শুভেন্দু । সেই সময় বিজেপির মাইকের মুখ মমতার সভামঞ্চের দিকে ঘোরানো হয়েছিল বলে অভিযোগ । মঞ্চ ছাড়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দেন, ‘আমি লিগ্যাল অ্যাকশন নেবো’ । এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়।
শনিবার চক্রবেড়িয়া রোডে স্বামী নারায়ণ মন্দির-এর কাছে সভা করছিলেন মমতা ব্যানার্জি । সেই সময় স্বামী নারায়ণ মন্দির বক্তব্য রাখছিলেন শুভেন্দু অধিকারী । মমতার সভা শুরু হতেই বিজেপি তাদের প্রচার গাড়ি থেকে জোরালো শব্দে মাইকিং শুরু করে বলে অভিযোগ । একে অপরের পাল্টাপাল্টি শব্দে বিঘ্নিত হয় তৃণমূলনেত্রীর ভাষণ। এতেই মেজাজ হারান মমতা। তিনি সাফ জানান, নির্বাচনের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে এবং সেই নিয়ম লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এই আচরণকে ‘পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া’ বলে অভিহিত করেন মমতা । উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ‘কেন করবে এটা? ইলেকশনের কতগুলো রুলস আছে। তা হলে ওরাও যেদিন মিটিং করবে তোমরাও পাল্টা লাগিয়ে দেবে। তখন পুলিশ তুলতে আসলে, মেয়েদের ধরে এফআইআর করবে। এটা পার্শিয়ালিটি।’ পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, মমতা মঞ্চ থেকেই কাউকে একজনকে ফোন করেন এবং ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, তিনি নিয়ম মেনে সমস্ত অফিসিয়াল পারমিশন (অনুমতি) নিয়ে এই সভা করছেন। তা সত্ত্বেও বিজেপি যেভাবে বাধা দিচ্ছে, তা কার্যত ‘হিউমিলেশন’ বা অপমানজনক। তিনি বলেন, ‘ওরা পশ্চিমবঙ্গকে দখল করতে জোর করে যা করছে, তা ঠিক নয়। ওরা যদি এটা আমার কেন্দ্রে করতে পারে… আমি এক মাস এখানে ছিলাম না। আমি রাজ্যে ঘুরছিলাম ২০০ আসনের জন্য। আপনারা যদি এমন আচরণ করেন, তা হলে আমি দুঃখিত।’উপস্থিত মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এই অসভ্যতামি করতে পারব না। এটা খুব অপমানজনক। আমি কাল এখানে র্যালি করে দেব।’ একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এই ঘটনার বিরুদ্ধে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন। ভোটারদের কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন,’এই অপমানের জবাব যেন সাধারণ মানুষ ইভিএম বক্সেই দেন।’ পাশাপাশি তিনি “লিগ্যাল অ্যাকশন” নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন ।।
