বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে জুড়ে দিয়ে গতকাল মমতা ব্যানার্জি আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে । এই মন্তব্যের জন্য বিজেপি মমতা ব্যানার্জিকে “দেশদ্রোহী” আখ্যা দিয়ে তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে । এদিকে বাংলাদেশের সাপ্তাহিক ইংরাজি পত্রিকা ব্লিটজ-এর সম্পাদক সালহা উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী মনে করছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানি আইএসআই-কে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন ।
এই বিষয়ে শোয়েব চৌধুরী নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন,’মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানি আইএসআই-কে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন!পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিশাল পরাজয়ের কয়েক সপ্তাহ পর, তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর নেত্রী এবং রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি নির্লজ্জ মিথ্যা নিয়ে হাজির হয়েছেন। তাঁর উদ্দেশ্য হলো—বাংলাদেশের একজন কুখ্যাত ভারত-বিরোধী ও হিন্দু-বিরোধী কর্মী ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা ‘ইন্টার-সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স’ (ISI)-এর ‘ঢাকা সেল’-এর যে প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে, সেই সত্যকে আড়াল করা।
তিনি লিখেছেন,একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, মমতা নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। এর কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, জামায়াতে ইসলামী এবং পাকিস্তানি আইএসআই বিপুল সংখ্যক অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে—যাদের মধ্যে অন্তত পাঁচ লক্ষ রোহিঙ্গা এবং ‘আটকে পড়া পাকিস্তানি’ (যাদের ‘বিহারি’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়) অন্তর্ভুক্ত ছিল—পশ্চিমবঙ্গের ভেতরে ঠেলে দিয়েছিল; আর এদেরকেই তড়িঘড়ি ভারতীয় ‘আধার কার্ড’ প্রদান করে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) নেতৃত্বের গৃহীত কার্যকর পদক্ষেপের ফলে এই পুরো ষড়যন্ত্রটিই নস্যাৎ হয়ে যায়। জানা গেছে, পাকিস্তানি আইএসআই মমতার দলকে নির্বাচনী তহবিলও প্রদান করেছিল।
তিনি লিখেছেন,সম্প্রতি এক বিবৃতিতে মমতা দাবি করেছেন যে—পশ্চিমবঙ্গে ওসমান হাদির হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর—তিনি শ্রী অমিত শাহের কাছ থেকে একটি ফোন পেয়েছিলেন। সেই ফোনে অমিত শাহ তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন যেন হত্যাকারীরা ‘বঙ্গ পুলিশ’-এর কাছে যা কিছু প্রকাশ করবে, তার বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখা হয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারত-বিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়ার এক গোপন উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি এই হাস্যকর দাবিটি করেছেন; আর এমনটা করা হলে তা পাকিস্তানের স্বার্থই পূরণ করবে।
শোয়েব চৌধুরী লিখেছেন,আরও জানা গেছে যে, ইসলামাবাদই মমতাকে উপরোক্ত দাবিটি করার জন্য অনুরোধ করেছিল। এর কারণ হলো, সম্প্রতি বাংলাদেশের পুলিশ ঢাকার শহরে ঘোরাঘুরিরত এবং রংপুরসহ বাংলাদেশের অন্যান্য জেলায় ঘনঘন যাতায়াতরত এক পাকিস্তানি আইএসআই কর্মীকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছিল। অধিকন্তু, পাকিস্তান বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী মনোভাবকে আরও উসকে দিতে চাইছে; কারণ এই মাসেই প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা করছেন।
প্রসঙ্গত,মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলার ধর্ণামঞ্চে একটা অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । তিনি বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে জুড়ে দিয়ে দু’দেশের কুটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করার চেষ্টা করেন । পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের প্রশংসা করে মমতা বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে এসটিএফ অ্যারেস্ট করেছিল জেনে রাখুন। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক রেভল্যুশন হয়েছিল।’মমতা বলেন, ‘অন্য দেশের কথা আমি বলছি না, আমার সেই অধিকার নেই, কিন্তু আমার মুখ্য বক্তব্য হলো, তারা মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসে। তখন আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে।’ তিনি আরও বলেন,’তার পরে হোম মিনিস্টার নিজে আমাকে ফোন করে বলেন… আপনি বেঙ্গল পুলিশকে বলে দিন এই কথা যেন বাইরে না যায়। এটা দেশের স্বার্থে।’মমতা প্রশ্ন তোলেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? আজ গভর্নমেন্ট চেঞ্জ হলেও আমি তো সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথা ভাণ্ডার, তথ্য ভাণ্ডার, সত্য ভাণ্ডার।’
যদিও বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, “ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ড নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রার্থী কী বলল, তা আমলে নেওয়ার কোনো কারণ নেই।”।
