ভারতে বামপন্থী রাজনীতি ক্রমশ বিলুপ্ত হতে বসেছে । যে বামপন্থীরা পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ৩৪ বছর শাসন করেছিল পশ্চিমবঙ্গে, আজ সেখানে তারা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই লড়ছে । একমাত্র রাজ্য কেরালায় কিছুটা হলেও টিকে ছিল । কিন্তু ইসলামি মৌলবাদকে কাজে লাগিয়ে সেখান থেকেও বামপন্থীদের ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করে দিয়েছে কংগ্রেস । তাই বামপন্থীরা মরিয়া ভাবে মুসলিম তোষামোদকে তাদের টিকে থাকার হাতিয়ার করছে । সেই সাথে চালিয়ে যাচ্ছে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে বিদ্বেষ মূলক প্রচার । এককথায় বলতে গেলে চুড়ান্ত নীতি হীনতায় ভুগছে ভারতের বামপন্থীরা ।
বাংলাদেশের ঢাকার জামালাপুরের বাসিন্দা মুক্তমনা সমাজকর্মী শেখ ফরিদ মনে করছেন যে,”ভারতীয় উপ মহাদেশে ২০২৯ সালে কমিউনিস্ট রাজনীতির কবর রচিত হয়ে যাবে” । এজন্য শাশ্বত সনাতন ধর্মকে উপেক্ষা করে বিদেশী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে আদর্শ হিসাবে উপস্থাপন করার চেষ্টাকেই তিনি দায়ি করেছেন ৷ এই সংক্রান্ত শেখ ফরিদের কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট নিচে তুলে ধরা হল ।
ভারতীয় বামপন্থীদের সম্পর্কে তিনি লিখেছেন,ভারতবর্ষের কমিউনিস্টেরা যদি তাদের রাজনৈতিক ক্লাসে পাঠ্যসূচীতে মহাভারত রাখতো, পড়তো, পড়াতো তাহলে আজ ভারতবর্ষ ভাঙ্গতো না। এবং ভারতবর্ষে কমিউনিস্ট শাসন চলতো। মহাভারতে রামায়নে যে অর্থনৈতিক সমাজের চিত্র রয়েছে। তা সাম্যবাদকে সমর্থন করে। কেবল মাত্র বিদেশি নায়ক দিয়ে কোন জাতিকে উদ্বুদ্ধ করা যায় না। ওটা ধর্মে চলে রাজনীতিতে নয়। ধর্ম ও রাজনীতি আলাদা বিষয়। ধর্ম একটি সম্প্রদায়ের রাজনীতি সকলের এবং সার্বজনীন।”
“
শেখ ফরিদ লিখেছেন,”ভারতীয় বামপন্থীরা ভারতবর্ষের সমাজ ও বিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করে আরবের বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধরে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিলো। এটা আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত ছিলো ভারতীয় বামদের জন্য। কমিউনিস্ট মেনিফেস্টো সব ভাববাদ প্রত্যাখ্যান করতে বলে। কিন্তু আপনারা সব ভাববাদ বাদ দিয়ে আরবদের ভাববাদদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করবেন। এটা তো সরাসরি প্রতারনা। ভারতবর্ষের প্রচীন গ্রন্থগুলো সব জ্ঞান গ্রহন করতে বলে, সেই সমাজের জ্ঞান আপনারা বর্জন করলেন,করতে বললেন। আর গ্রহন করলেন তাদের, যারা বলে দুইটি কেতাবই তাদের জন্য যথেষ্ট আর কিছু দরকার নেই। তবে তো তা আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত হবেই। তার কূফল আপনারা বামেরাও ভুগছেন পুরো ভারতবর্ষকে ভোগাচ্ছেন।”
তিনি লিখেছেন,”হিন্দুরা কমিউনিস্ট হবে কি হবে না তাতে আপনি সন্দেহ রাখতে পারেন। কিন্তু মুসলমান কখনোই কমিউনিস্ট হয় না, হতে পারে না। তাই আজকাল কমরেডদের অফিসে জায়নামাজ থাকে। তা দিল্লি হোক বা কোলকাতা বা ঢাকার পার্টি অফিস। মুসলমান এক সাথে মুহাম্মদ ও মার্কস নিয়ে চলতে পারে না। তথা,কোরান ও কমিউনিষ্ট মেনিফেস্টো নিয়ে চলতে পারবে না। একজন মুসলমানের ধর্ম ও তার বিশ্বাস তাকে সে অনুমোদন দেয়ই না।”
তিনি বলেছেন,”কিন্তু একজন হিন্দু তার ধর্ম ও বিশ্বাস সাথে রামায়ন মহাভারত ও মার্ক্স নিয়েও চলতে পারবে। ভারতবর্ষকে সমাজতান্ত্রিক দেশ করার সে মহাসুযোগ ভারতবর্ষের বামপন্থীরা পায়ে ঠেলে নষ্ট করে দিয়েছে। ঢাকা,লাহোরে তো বামপন্থীদের কোন ভবিষ্যত নেইই, মুসলমানেরা তা রুখে দিয়েছে। আর দিল্লিতেও বামেরা তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে ফেলেছে নিজেরাই।” সবশেষে শেখ ফরিদ বলেন,”এ উপমহাদেশে ২০২৯ সালে কমিউনিস্ট রাজনীতির কবর রচিত হয়ে যাবে। ২০২৪ বাংলাদেশের বামদের দাফন হয়ে গেছে। তা বাংলাদেশী বামেরা বুঝেনি। এরা পন্ডিত হলেও সব কিছু একটু দেরিতে বুঝে।”
বামপন্থীদের তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করে শেখ ফরিদ অন্য একটি পোস্টে লিখেছেন,”চিংকু বাম চক্কর বক্করবতী গ্যাংদের তেহরানের কসাই ও ঘামাসের জঙ্গি পিড়ীতি দেখে আমার হাসি পাচ্ছে। কওমি মাদরাসার তালেবে এলেমরা নিজেরা কোরান হাদিস না পড়ে যেমন, ওস্তাদ + আকাবের কি বলেছে, তাইই কোরান হাদিস মনে করে। তেমনি বামেরাও বিগ কমরেড ও কমরেডিরা কি বললো তাই অন্ধের মত বিশ্বাস করে। এ বিষয়ে ধর্মান্ধ ও বামদের বৈশিষ্ট্য একই রকম।”
তিনি এও বলেছেন,”আমি যদি স্বাধীন ভারত সরকারে থাকতাম। তবে তথাকথিত বাবরি মসজিদের আগে, প্রথমে আমি আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় গুড়িয়ে দিতাম। ভারতের সনাতনিরা ভোদাই নম্বর ওয়ান। তাই বাবরি মসজিদ ভেঙ্গেছে কিন্তু আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় ভাঙেনি। বরং ভারত টুকরো করার কেন্দ্রটাকে এখনো আস্ত রেখেছে। এবং এ প্রতিষ্ঠান থেকে আজো টুকরো গ্যাং বের হচ্ছে।” তিনি বলেছেন,”ধরুন, আাগমীতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ভেঙ্গে কোন হিন্দু রাষ্ট্র গঠিত হলো কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে। ঢাকা ও লাহোরে সে প্রতিষ্ঠা টিকতো দিবে? বুকে হাত দিয়ে বলুন তো!”
ভারতে হঠাৎ গজিয়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি সম্পর্কে শেখ ফরিদের মন্তব্য হল : “ভারত টুকরো গ্যাং+চিংকুবাম+ জঙ্গি মুসলিম+ এনজিওর দোকানদার = ককরোচ পার্টি । রাজনৈতিক বাটপার অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ গজওয়াতুল হিন্দ দিল মে রেখেছে তা মানুষ বুঝে। ছাত্রদের পক্ষে তার দরদ উথলে উঠেছে। শত শত ভারতীয় হত্যাকারী, পাজিস্তানি জঙ্গি কাসাবের পক্ষে ফাঁসি না দেওয়ার জন্য সাইন করেছিলো এই নাসিরুদ্দিন শাহ। তখন ভারতীয় জনগনের জন্য তার দরদ ডিপফ্রিজে ছিলো।” তিনি লিখেছেন,”যে ছাত্রকে পুলিশ ডলা দিলো সে সরাসরি শান্ত ভাবে দাড়িয়ে থাকা পুলিশের উপর পেপার স্প্রে করেছিলো। পরিকল্পিত ভাবে ভারত অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে এরা বিদেশি প্রভূদের ইশারায়। ওটা ভারত, বাংলাদেশ নয়। সফল হতে পারবে না ষড়যন্ত্র কারীরা। ২০১৪ সাল থেকেই বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে কত অপচেষ্টা চালচ্ছে।যথারীতি ২০২৯ সালেও এরা আবার ব্যার্থ হবে।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করে শেখ ফরিদ লিখেছেন,”আমাকে দেড় মাস আগে একজন অভিজ্ঞ ব্যাক্তি বলে ছিলেন। আগামীতে সোসাল মিডিয়া ও সোসাল মিডিয়ায় সক্রিয় ব্যাক্তি ও গোষ্ঠিই সমাজ ও রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করবে। কথাটার সত্যতা পেলাম ফেসবুক, টুইটারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উপস্থিতি দেখে । কয়েক মিনিটের দুই ভিডিওতেই কিস্তি মাত! তথা সব ষড়যন্ত্র থামিয়ে দিলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে। অনেকেই ধরে নিয়ে ছিলো এবার দিল্লিতে সরকার পতন ঘটবে। উল্টো বিজেপি ও নরেন্দ্র দামোদার দাশ মোদীর সমালোচকেরাই এখন তার প্রশংসা করছে। কিভাবে শক্তি প্রয়োগ না করে সরকার বিরোধী আন্দোলন থামাতে হয়। তা নরেন্দ্র মোদীর কাছে নাকি শেখা উচিত।”
