এইদিন ওয়েবডেস্ক,রাঁচি,১৭ আগস্ট : রবিবার ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি-জেএসএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্রতর হয়েছে। প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীরা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গাঁধি এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের কুশপুত্তলিকা দাহ করেছে। ২০ আগস্টের মধ্যে তাদের দাবি পূরণ না হলে মুখ্যমন্ত্রীর রাঁচির বাসভবন ঘেরাও করার হুমকি দিয়েছেন তারা।
ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি) দ্বারা পরিচালিত পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীরা, যাঁরা ২৩তম দিনে রয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণের জন্য রাজ্য সরকারকে ১৮ই আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন।
তারা জেএসএসসি সিজিএল এবং জেপিএসসি একাদশ থেকে ত্রয়োদশ শ্রেণির পরীক্ষা বাতিল, অনিয়মের সিবিআই তদন্ত এবং টিডিপিএল সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা এও হুমকি দিয়েছেন যে, তাদের দাবি পূরণ না হলে তারা সোরেনের পদত্যাগ চাইবেন।জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চ একটি পোস্টে জানিয়েছে,”১৮ তারিখের মধ্যে আমাদের দাবি পূরণ না হলে ২০ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করা হবে। আমরা সেখানে বসে আমাদের অধিকার দাবি করব এবং আমাদের অধিকার না দেওয়া হলে পদত্যাগও দাবি করা হবে।”
বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সরকারের কাছ থেকে কোনো সাড়া আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছে।জেপিএসসি-জেএসএসসি সুধারানা মঞ্চের নেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান বলেছেন যে, এখন থেকে আন্দোলন গান্ধীর পথের পরিবর্তে ভগত সিংয়ের পথ অনুসরণ করবে।পাসওয়ান বলেন, “আজ আমরা আমাদের আন্দোলনের গতিপথ পরিবর্তন করছি। গান্ধীবাদী পন্থা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে আমরা ক্লান্ত। তারা আমাদের কথা শুনছে না। আমরা এখন ভগত সিংয়ের পথ অবলম্বন করতে যাচ্ছি। এ কারণে, সরকার আমাদের বুকে গুলি করলেও আমরা সেই গুলির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত ।”
তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং সতর্ক করে দিয়েছেন যে, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
ঝাড়খণ্ড সরকারকে সমর্থন করা সত্ত্বেও হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিক্ষোভকারীরা কংগ্রেসকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।ছাত্রছাত্রীদের ভাষ্যমতে, রাহুল গাঁধি আগেই তাঁদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, যদি সোরেন ১৫ই আগস্টের মধ্যে তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগ না নেন এবং সন্তোষজনক জবাব না দেন, তবে কংগ্রেস রাজ্য সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবে। তাঁদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার পরেও কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং তাঁরা ফের সোরেন ও গাঁধির কুশপুত্তলিকা দাহ করার পরিকল্পনা করেছেন বলে জানিয়েছেন।।
