এইদিন ওয়েবডেস্ক,জম্মু-কাশ্মীর,৩১ অক্টোবর : জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ(৫৬) এবং টেলিভিশন সাংবাদিক ও কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারের নিধি রাজদান(৪৯) শনিবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারকে নিয়ে একটি ব্যক্তিগত বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করছেন। তার আগে নিধির সঙ্গে নিজের ছবি পোস্ট করে নতুন এই সম্পর্কের কথা জানিয়ে ওমর আবদুল্লাহ সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন,’গতকাল একটি নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে ।’ জম্মু-কাশ্মীরের উপমুখ্যমন্ত্রী সুরিন্দর চৌধুরী ওমর আবদুল্লাহকে তাঁর বিবাহের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।
জানা গেছে, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ওমর আবদুল্লাহ এবং নিধি রাজদানের রেজিস্ট্রি বিয়ে হয় এবং এর আগে শ্রীনগরের ডাল লেকের কাছে হরি নিবাসে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। বিয়ের বিশেষ আয়োজন নয়াদিল্লির পৃথ্বীরাজ রোডে অবস্থিত কাশ্মীর হাউসে অনুষ্ঠিত হবে। অতিথিদের তালিকায় শুধু দম্পতির ঘনিষ্ঠ সামাজিক ও পারিবারিক পরিমণ্ডলই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানা গেছে ।
কে এই নিধি রাজদান ?
সাংবাদিক নিধি রাজদান একজন কাশ্মীরি পণ্ডিত এবং মহারাজ কৃষ্ণ রাজদানের কন্যা, যিনি সংবাদ সংস্থা, প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়ার প্রাক্তন প্রধান সম্পাদক । নিধি রাজদান ২০০৬ সালে সাংবাদিক ও লেখক নীলেশ মিশ্রের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বিবাহের দুই বছর পরে ২০০৭ সালে, এই দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।নিধি রাজদান একটি বেসরকারি নিউজ চ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত । তাঁর কর্মজীবনে জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ব্যাপকভাবে সংবাদ সংগ্রহ করেছেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, একটি মধ্যাহ্নভোজে নিধি রাজদান ও ওমর আবদুল্লাহর উপস্থিত তাদের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনার জন্ম হয়৷
অন্যদিকে ওমর আবদুল্লাহ আগে থেকেই বিবাহিত । ওমর ও পায়েল নাথ ১৯৯৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং তাদের দুই পুত্রসন্তান রয়েছে। পায়েল নাথ ভারতের রাজধানী দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রাম নাথের কন্যা।১৯৯০-৯১ সালের দিকে দিল্লির ওবেরয় হোটেলে কাজ করার সময় ওমরের সাথে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বেশ কয়েক বছর ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন চলছিল এবং তারা আলাদাভাবে বসবাস করছিলেন । বছরের পর বছর আইনি লড়াইয়ের পর, ২০২৪ সালে ওমর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সেই বছরের জুলাই মাসে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পায়েলকে একটি নোটিশ জারি করা হয় । গত জুলাই মাসে সুপ্রিম কোর্ট পারস্পরিক সম্মতিতে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটায়। দুই পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পর এবং সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে তাদের বিবাহবিচ্ছেদের জন্য যৌথভাবে আদালতে আবেদন করার মাধ্যমে এই বিবাদের নিষ্পত্তি হয়।।
Author : Eidin Desk.
