এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৭ জুলাই : দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর থানার অন্তর্গত সূর্যহাট এলাকায় এক ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় সুপরিকল্পিত হিংসা ছড়ানো হয়৷ তুলে ফেলা হয় রেললাইন । ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি । হামলা হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর । সেই সময় ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক নির্দোষ যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়৷ আজ মঙ্গলবার বারুইপুরে দাঁড়িয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই হিংসায় পিছন থেকে যারা উসকানি দিয়েছিল তাদের মধ্যে ভোটে হেরে যাওয়া রাজনৈতিক দল(নাম না করে সিপিএমের দিকে ইঙ্গিত করেছেন তিনি),চরমপন্থী ও দেশবিরোধীরা ছিল । এই হিংসায় যার নাম সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে, তিনি হলেন সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য ও বারুইপুর পশ্চিমে সিপিএম প্রার্থী লাহেক আলি । তিনি ছাড়াও অনুভাম মাইতি নামে আরও এক সিপিএমের নেতার নাম উঠে এসেছে ।
তবে লাহেক আলির সঙ্গে উগ্র ইসলামি গোষ্ঠী জামাত ইসলামির সঙ্গে সম্পর্ক থাকতেও পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন রিপাবলিক বাংলার এডিটর ইন চিফ ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ । এনিয়ে তিনি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন । নিজের ফেসবুক পেজে ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ লিখেছেন :
এবার ময়ূখ কিছু অপ্রিয় কথা বলবে, হজম করুন ।
বারুইপুরের ঘটনায় মৌ লবা দী যোগ রয়েছে। ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে যারা জা তি হিং সা লাগানোর চেষ্টা করেছিল। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিলেন। পাশাপাশি ইন্দ্রজিৎ মন্ডল তাঁতিপাড়ার ছেলে যাকে পি টি য়ে মে.রে দিয়েছিল মব, আর্বান নকশালদের উসকানিতে সে ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নয়, অভিযুক্ত নয়। তাহলে কেন এগুলো করা হলো? পদ্মপুকুর পার্টি অফিসে কান পাতলে অসহায় আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে যারা পুরনো কমরেড তাদের। তারা খুব ভালো করে এরিয়া জানে। তারা এটাও জানে দল কবেই হাইজ্যাক করে নিয়েছে টুকড়ে গ্যাং। নেতৃত্ব দিয়েছে বারুইপুর স্টেশন রোডে থাকা এক কবি ও লাহেক। কে এই লহেক যে বাড়ির লোককে টানা বোঝানোর চেষ্টা করে যাচ্ছিল আর বাড়ির লোক বিরক্ত হচ্ছিল?’
তিনি লিখেছেন,’সিপিএম নেতা লাহেক আলীর সঙ্গে জামাত যোগ আছে? এসটিএফ তদন্ত শুরু করুক। বারুইপুর দীর্ঘদিন ধরে পি-এফ-আ-ই এর শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। বারুইপুরের জনবিন্যাস দশকের পর দশক ধরে পরিবর্তন করানো হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে। বারুইপুরের মানুষ জানেন কোথায় কোথায় রোহিঙ্গা কলোনি তৈরি করা হয়েছিল। প্রথমে বেড়া দিয়ে, তারপর টিনের চালা তারপর চোখের সামনে দালান, জলের লাইন, বিদ্যুতের কানেকশন। এগুলো নতুন কিছু না। বেছে বেছে এই এলাকাগুলোতেই কারা ঘটনায় রং চং চড়িয়ে লোক খেপানো শুরু করল? দায়িত্বশীল সংবাদ কর্মী হিসেবে সবটা লিখতেও অসুবিধা হচ্ছে আর কারা একটা ফুটফুটে বাচ্চাকে ঢাল করে এক মারাত্মক গেমপ্ল্যান সাজিয়ে গোটা ভারতে বার্তা দিতে চাইল? ঘরে কেন? মহল্লায় এসো, মাইক লাগাও, রাস্তা দখল কর! তড়িঘড়ি কোন দুটি হাউমাউখাউ আওয়াজ তুলল? কেন তুলল? সব বড্ড কাকতালীয়?’
তিনি লিখেছেন,’আবার বলছি। ময়ূখের উপর বড্ড রাগ হবে। ভীষণ ট্রোল করতে ইচ্ছে করবে। করুন। প্রাণ ঢেলে গাল দিন। কিন্তু আবার বলছি। খরচ হোক, বুলডোজার চলুক, আপনার যা যা বলছেন সবকিছু হোক। সব চাপ দেওয়া হোক সরকারকে। আমি টানা ফাস্ট ট্রাকের জন্য চিৎকার করে যাব কিন্তু ঘরে একটা কালসাপও চলে এসেছিল ভিড়ের মাঝে। আমি ওটা দেখে চুপ থাকতে পারিনি। রাষ্ট্রকে ছোবল মারতে আসলে চুপ থাকা যায় না।
সব লেখা যায় না। জাতীয় সুরক্ষার স্বার্থে সব ফেসবুকে বলা যায় না। কিন্তু যে কথাগুলো বলার জন্য অপ্রিয় হয়ে গেছিলাম কিছুজনের কাছে, সেগুলোই এক এক করে প্রমাণিত হচ্ছে। আবার লিখছি। read in between the lines! একটা ফুটফুটে বাচ্চাকে ঢাল করে এক মারাত্মক গেমপ্ল্যান সাজিয়ে গোটা ভারতে বার্তা দিতে চাইল? ঘরে কেন? মহল্লায় এসো, মাইক লাগাও, রাস্তা দখল কর! বাকিটা বুঝে নিন। সময় আসুক। সব উত্তর পাবেন।—— ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ ।’
কে এই মহম্মদ লাহেক আলী?
মহম্মদ লাহেক আলী ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে সিপিআই(এম) প্রার্থী হিসেবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যদিও তিনি শোচনীয় ভাবে পরাজিত হন । মহম্মদ লাহেক আলীর শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর এবং তিনি তাঁর পেশা হিসেবে শিক্ষকতা ঘোষণা করেছেন। নির্বাচনী হলফনামা অনুসারে, মহম্মদ লাহেক আলীর মোট সম্পদের পরিমাণ ৯.৫ লক্ষ টাকা এবং দেনার পরিমাণ ০ টাকা। মহম্মদ লাহেক আলী তাঁর বার্ষিক আয় ০ টাকা ঘোষণা করেছেন। মহম্মদ লাহেক আলী ঘোষণা করেছেন যে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বিচারাধীন ফৌজদারি মামলা নেই, যার মধ্যে ০টি গুরুতর প্রকৃতির।
বারুইপুরে হিংসার পিছনে স্থানীয় সিপিএম নেতা মহম্মদ লাহেক আলীদের উস্কানি, মদতের কথা বলেছেন বিজেপি নেতা অনির্বান গাঙ্গুলি। এই কাণ্ডে কলকাতার রাস্তায় মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মোমবাতি মিছিলকেও কটাক্ষ করেছেন এই বিজেপি নেতা।
কৃষাণু সিনহা নামে এক এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন,সিপিআইএমের মুসলমান নেতা লায়েক আলি বারুইপুরের ঘটনায় বিজেপির নাম জড়িয়ে দিল (কারণ অভিযুক্তরা ধর্ম পরিচয়ে হিন্দু এবং নির্যাতিতা মুসলমান এবং এই নিয়ে সমাজে আগুন লাগানো সহজ), সেইটা নিয়ে খবর ছড়ালো দু’টো ফেসবুক পেজ – The Awaz আর HOW এবং সিপিএমের নেতারা একটানা এনিয়ে কোন প্রমাণ ছাড়া প্রচার করে দিল পুলিশ কিচ্ছু করে নি, ঘটনায় জড়িত বিজেপি, আর.এস.এস! ব্যাস্!এদিকে নির্যাতিতার বাবা, যিনি নিজের মেয়ে হারিয়েছেন, তিনি বলছেন পুলিশ অনেক সহযোগিতা করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী সহযোগিতা করেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ভরসা পাচ্ছি। তিনি একবারও কিন্তু অভিযোগ করছেন না এই ঘটনায় বিজেপি, আরএসএস জড়িত। এইবার আপনি নির্যাতিতার বাবার কথা শুনবেন নাকি সিপিএমের কথা, সেটা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত বিবেচনার বিষয়।’।
দাবিত্যাগ : প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের মতামত সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব। এর সঙ্গে এইদিন-এর কোনো সম্পর্ক নেই।

