এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২০ জুন : কনসার্টে হিজাব ছাড়া গান গাওয়ার অপরাধে ইরানি গায়িকা কে ৭৪ বার বেত্রাঘাতের শাস্তি দিয়েছে ইরানের কোম-এর একটি আদালত ।পারাস্তু আহমাদি ‘কারাভানসরাই কনসার্ট’-এর সাথে যুক্ত । শুধু গায়িকা পারাস্তু আহমাদিই নন, আরও আটজন সঙ্গীতশিল্পী ও প্রযোজনা দলের সদস্যকে প্রত্যেককে ৭৪ বার করে বেত্রাঘাত, দুই বছরের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং দুই বছরের জন্য শৈল্পিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞার শাস্তি দিয়েছে। আদালতটি এই পরিবেশনাকে “অনৈতিক বিষয়বস্তু” আখ্যা দিয়েছে।
জানা গেছে,২০২৪ সালের ডিসেম্বরে, পারাস্তু আহমাদি(Parastoo Ahmadi) কাঁধ খোলা একটি পোশাক পরে বেশ কয়েকটি গান গেয়েছিলেন। ভিডিওটি প্রায় ৩০ লক্ষ ভিউ পায়।এরপর গায়িকা, সঙ্গীতশিল্পী এবং চিত্রগ্রহণকারী দলকে আটক করা হয়। আদালত তাদেরকে “জনসাধারণের নৈতিকতার নিয়ম লঙ্ঘনের” জন্য দোষী সাব্যস্ত করে।আহমাদি এবং দলের অন্য আট সদস্যকে প্রত্যেককে ৭৪টি করে বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া হয়, সেইসাথে দুই বছরের জন্য শৈল্পিক কার্যকলাপ এবং ইরান ত্যাগের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
এই শাস্তি যেভাবে কার্যকর করা হয়: দণ্ডিত ব্যক্তিকে প্রথমে একটি কারাগারে বা একটি বিশেষ কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের একটি বিশেষ বেঞ্চে উপুড় করে শোয়ানো হয় বা হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করা হয় — তাদের হাত ও পা বেল্ট দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়।কখনও কখনও কব্জি বাঁধা অবস্থায় একটি দণ্ড ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে তাদের বাধ্য করা হয়। পিঠ ও উরুর পোশাক তুলে ফেলা হয় বা কেটে খোলা হয় —যাতে আঘাতগুলো সরাসরি চামড়ার উপর লাগে ।
জল্লাদ চামড়ার চাবুক দিয়ে পিঠ ও উরুতে আঘাত করে। দণ্ডিত ব্যক্তি যদি নারী হন, তবে একজন নারী জল্লাদ এই শাস্তি কার্যকর করেন। শারীরিক শাস্তির চেয়েও মানসিক ও নৈতিক অপমান কখনও কখনও ভুক্তভোগীকে আরও বেশি ভেঙে দিতে পারে। ৭৪ বার চাবুকের আঘাতের পর শরীরে গভীর ক্ষত, খোলা ঘা, ক্ষতচিহ্ন এবং কালশিটে দাগ থেকে যায়।।
