এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২৮ জুন : ইরানের সেনাবাহিনী আইআরজিসি-এর জনসংযোগ বিভাগ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে,আজ রবিবার ভোর ২টা থেকে ৩টার মধ্যে তাদের সামরিক বাহিনীটির নৌ ও মহাকাশ ইউনিটগুলো একটি যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান পরিচালনা করেছে।বিবৃতি অনুসারে, এই অভিযানে কুয়েতের আলি আল-সালেম ঘাঁটিতে অবস্থিত আটটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক অবকাঠামো এবং বাহরাইনের পোর্ট সালমানে অবস্থিত দেশটির পঞ্চম নৌবহরের ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়।কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রুভাবাপন্ন’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করছে।কুয়েতের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতি অনুসারে, বিস্ফোরণের শব্দগুলো ছিল “বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কর্তৃক শত্রুপক্ষের হামলা প্রতিহত করার ফল।”বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে যে, দেশটিতে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজছে।মন্ত্রণালয় বাহরাইনের জনগণকে শান্ত থাকতে এবং নিকটতম নিরাপদ স্থানে চলে যেতে আহ্বান জানিয়েছে।
ট্রাম্প সতর্ক করেছেন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন যে, মার্কিন বিমান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ডিপো-সংশ্লিষ্ট অবস্থান এবং উপকূলীয় রাডার সাইটগুলোতে হামলা চালিয়েছে।তিনি আরও বলেন: “এমন এক সময় আসতে পারে যখন আমরা আর যুক্তিবাদী থাকতে পারব না এবং সফলভাবে শুরু করা কাজটি সামরিকভাবে শেষ করতে বাধ্য হব।”তিনি হুমকি দেন,”এমনটা হলে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না ।”
ইরানের ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ পোস্ট করা একটি ভিডিওতে ঘোষণা করেছে যে, রবিবার সকালে মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো ওই অঞ্চলে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে।
সেন্টকমের মতে, এমটি কিকো তেল ট্যাংকারের ওপর ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ড্রোন হামলার জবাবে এই অভিযানটি চালানো হয়, যে অভিযানে হরমুজ প্রণালী ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলায় ১০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছিল।
অন্য একটি বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে যে, মার্কিন বাহিনী সর্বাধিনায়কের নির্দেশে ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে অতিরিক্ত হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতি অনুসারে, “এম/ভি ওভার লাভলি-র ওপর ইরানের হামলার জবাবে গতকাল [শুক্রবার] মার্কিন হামলার পর ইরানকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পূর্বাঞ্চলীয় সময় ভোর ৪:৩০ মিনিটে তাদের বাহিনী এম/টি কিকো-র ওপর একটি আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়ে সেই সুযোগটি হাতছাড়া করেছে। পানামার পতাকাবাহী ট্যাংকারটি বিশ লক্ষ ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছিল।”
সেন্টকম আরও যোগ করেছে,“বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের অব্যাহত আগ্রাসনের সরাসরি জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বাহিনী আজ হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বিমানগুলো ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান প্রতিরক্ষা কেন্দ্র, ড্রোন মজুত কেন্দ্র এবং মাইন পাতার সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ।”
সেন্টকম জোর দিয়ে বলেছে এবং আরও যোগ করেছে যে,“হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে । মার্কিন বাহিনী সতর্ক, মারাত্মক ও প্রস্তুত রয়েছে।”
