এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৬ আগস্ট : গতকাল দিল্লিতে কংগ্রেসের জাতীয় কার্যালয়ে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম’ গান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে সোনিয়া গাঁধিকে । এমনকি তিনি ইশারা করে গান বন্ধ করার জন্যেও বলেন । তারপরেও গান বন্ধ না হলে মঞ্চে সোনিয়া ও তার পুত্র রাহুল গাঁধিকে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে । সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ভাইরাল । এমনকি রাহুলকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের অনুষ্ঠানে বন্দেমাতরম না গাইলেও চলবে’ । এনিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন সোনিয়া ও রাহুল । এখন কংগ্রেসের দুই চালিকা শক্তিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি উঠছে । পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ রবিবার নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে এনিয়ে তীব্র ক্ষোভে প্রকাশ করেছেন । তিনি সোনিয়াকে কংগ্রেসের “মালকিন” অবিহিত করে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন ।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন,’গতকাল স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দিল্লিতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ বন্দেমাতরম গাওয়ার সময় কংগ্রেসের প্রকৃত মালিক সোনিয়া গাঁধি তার বিরক্তি, আপত্তি এবং বিরোধিতা করেন। সেটা সবাই দেখেছে।
কংগ্রেসের কোনো কোনো নেতা তাদের মালকিনকে বাঁচানোর জন্য অনেক রকম চেষ্টা করলেও যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে তাতে ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগ তাদের কাছে নেই।’ তিনি বলেন,’বন্দে মাতরম-কে অবমাননার অর্থ দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ এবং এর রচয়িতা সাহিত্য সম্রাট ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অবমাননা।’
‘বন্দে মাতরম্’-এর সার্ধশতবর্ষ পালনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,’ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় স্তোত্রের মর্যাদা রক্ষায় নির্দিষ্ট আইন আনা হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যে সরকার ও সরকার-পোষিত সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রার্থনার সময় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকালই ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্য সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সোনিয়া গাঁধি এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে চিঠি পাঠিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেছেন । বিষয়টি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেসীদের কাছ থেকে কিছু আশা করব না, কারণ এদের এ বিষয়ে কিছু বলার ক্ষমতা বা দম আছে বলে মনে হয় না। তবে বঙ্কিমচন্দ্রের পরিবারের সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা চিঠির চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সোনিয়া গান্ধি এবং মল্লিকার্জুন খাড়গে কী প্রতিক্রিয়া দেন, আমরা তার অপেক্ষা করব।’।
