এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,০১ নভেম্বর : বাংলাদেশের রাজশাহীর পুঠিয়ায় এক হিন্দু যুবকে অনিক কুমার দাসের (২১) বাড়ির সামনে বিয়ের দাবিতে ধর্ণায় বসেছিল ২২ বছর বয়সী এক মুসলিম যুবতী । গত দুদিন ধরে তিনি সেখানে ধর্ণা চালিয়ে যাচ্ছেন । তরুনী শেরপুরের বলাইচর দক্ষিণপাড়া এলাকার আশরাফ আলীর মেয়ে । সংবাদমাধ্যম খবর পেয়ে সেখানে গেলে তরুনী বলেন,’আমি নিজেকে অনেক বুঝাইছি । কিন্তু আমি অনিককে ছাড়া বাঁচতে পারব না ।’ তরুনীর কথায়,’প্রেমের সম্পর্কে হিন্দু-মুসলিম বলে কিছু হয়না ।’ এদিকে জানা যাচ্ছে যে,তরুনীর এই প্রকার অনড় মানসিকতা দেখে অনিক কুমার দাসের পরিবার তাদের বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেরপুরের বলাইচর দক্ষিণপাড়া এলাকার আশরাফ আলীর মেয়ের সঙ্গে পুঠিয়ার কৃষ্ণপুর বুড়া শিবতলা এলাকার অনিক কুমার দাসের (২১) ফেসবুকের মাধ্যমে। পরিচয় হয় অনিকের বাবা বিমল চন্দ্র দাস। তরুণীর দাবি, ফেসবুকে পরিচয়ের পর তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় এক বছর ধরে তাঁদের সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের পরিণতি হিসেবে অনিককে বিয়ে করতে চান তিনি। এ জন্যই প্রেমিকের বাড়িতে এসেছেন। তরুণী জানান, গত রাতে তিনি পুঠিয়ায় পৌঁছান। পরে অনিকের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে পুঠিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি ওই বাড়িতেই রয়েছেন।
অনিককে বিয়ে করার বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা জানিয়েছেন তরুণী। প্রয়োজনে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করতেও তাঁর আপত্তি নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে ধর্মীয় বা আইনগত কোনো আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়। তাঁদের কয়েকজন জানিয়েছেন, তরুণীকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য যুবকের পরিবারকে বলা হয়েছে। তবে তরুণী বাড়ি ছেড়ে যেতে রাজি নন বলে জানা গেছে।
এদিকে অনিকের বাবা বিমল চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, তরুণীর বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, মেয়ের বিষয়ে তাঁদের আর কোনো দাবি নেই বলে জানিয়েছেন তরুণীর অভিভাবকেরা। বিমল দাসের ভাষ্য অনুযায়ী, তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে এমন কথা জানানোয় তাঁরা বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, মুসলিম তরুণীর হিন্দু যুবকের বাড়িতে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরেছে। ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।।

