এইদিন ওয়েবডেস্ক,মালদা,০১ নভেম্বর : ফের মাদক পাচার রুখতে বড়সড় সাফল্য পেল স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। মালদার কালিয়াচকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের মধুঘাট এলাকা থেকে একটি চারচাকা গাড়ি সহ বেশ কয়েকজন মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ২ কেজি ৬৮৮ গ্রাম ব্রাউন সুগার। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা বলে জানা গিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চার ধৃত একটি চারচাকা গাড়ি ও উদ্ধার হওয়া মাদক বন্দি হওয়া প্যাকেটের ছবি এক্স-এ পোস্ট করে লিখেছেন,’মাদক সিন্ডিকেটগুলির বিরুদ্ধে আমাদের চলমান অভিযানে এক বড় সাফল্য হিসেবে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) একটি সতর্ক দল মালদা জেলার কালিয়াচকের মধুঘাটের কাছে এনএইচ-১২-তে একটি গাড়ি আটক করে। এ সময় প্রায় ২.৬৮৮ কেজি চোরাচালানের মরফিন উদ্ধার করা হয় এবং একটি আন্তঃরাজ্য মাদক নেটওয়ার্কের চারজন মূল পান্ডাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই পুরো চক্রটিকে গোড়া থেকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার জন্য একটি নির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
মুখ্যমন্ত্রী আরও লিখেছেন,’পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এবং এসটিএফ-এর অফিসার ও কর্মীদের তাদের দ্রুত, সমন্বিত পদক্ষেপ এবং কর্তব্যের প্রতি অবিচল নিষ্ঠার জন্য আমি প্রশংসা করি।আমি মাদক পাচারকারী, চক্রান্তকারী এবং সিন্ডিকেট পরিচালনাকারীদের মনে করিয়ে দিতে চাই যে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কারণ আমাদের সরকার আমাদের যুবকদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এবং আমাদের সম্মিলিত সংকল্পকে শক্তিশালী করার জন্য মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে একটি আপসহীন জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখে।’
গতকাল মালদার কালিয়াচকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের মধুঘাট এলাকা থেকে একটি চারচাকা গাড়ি সহ তিন যুবককে গ্রেফতার করে এসটিএফ। ধৃতদের মহম্মদ মাসুদ রহমান (২০), হাসিবুর শেখ (৩৭) এবং মহম্মদ নাবিউল হক (২৭) নামে চিহ্নিত করে পুলিশ । ধৃতদের বাড়ি কালিয়াচক থানার গয়েশবাড়ি অঞ্চলের বাখরপুর ও সুজাপুর এলাকায় বলে জানানো হয়েছে । পরে কালিয়াচকের বাসিন্দা ফজলু শেখের ছেলে সাহিবর আলি(৩৯) গ্রেপ্তার করা হয় । ধৃতদের সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে শনিবার পেশ করা হয় মালদা জেলা আদালতে।
উল্লেখ্য, মালদার কালিয়াচক এলাকায় বারবার বিপুল পরিমাণ ব্রাউন সুগার উদ্ধারের ঘটনায় মাদক পাচার চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।।

