এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,২০ জুন : ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের অবমাননা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকায় বিশাল মানববন্ধন ও মশাল মিছিলের আয়োজন করে ‘ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ, বাংলাদেশ’ । সেই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এক তরুনী আইনজীবী চৈতালী চক্রবর্তী নিজের দেশের হিন্দুদের উপর ঘটে চলা ইসলামি মৌলবাদীদের অত্যাচারের ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি । আন্দোলন চলাকালীন মূল মঞ্চের বাইরে চৈতালী চক্রবর্তী মিডিয়ার ক্যামেরার সামনে যাবতীয় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন,”ওরা দুটো মারলে আমরাও একটা মারব” । শুধু তাইই নয়,বাংলাদেশের কোনো এক প্রদেশকে হিন্দুদের জন্য ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান, যেখানে মুসলিমদের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে । কিন্তু একজন নারী হয়ে এই মন্তব্য করার সাহস দেখালেও ভয়ে যাবতীয় দায় এড়িয়ে গেল আয়োজক হিন্দু সংগঠন ‘ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ, বাংলাদেশ’ । তবে সংগঠনটি দায় এড়ালেও বাংলাদেশের হিন্দু যুবসমাজ চৈতালী চক্রবর্তীর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে সমর্থন করেছেন ।
সনাতন ধর্মের প্রাণপুরুষ ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের অবমাননা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে উপর্যুপরি আঘাত হানার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। গতকাল ১৯ জুন ২০২৬ তারিখে ঢাকার বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। ‘ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ, বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সর্বস্তরের সনাতনী সংগঠন, মঠ-মন্দিরের প্রতিনিধি, ছাত্র ও যুবসমাজের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সমাবেশটি এক মহাসমাবেশে রূপ নেয়। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মশাল মিছিল ঢাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে বক্তারা দেশব্যাপী সনাতনী সমাজের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষা এবং সকল সম্প্রদায়ের মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িক ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার জোর আহ্বান জানান।
কর্মসূচি চলাকালীন মূল বক্তব্য মঞ্চের বাইরে পৃথক স্থানে চৈতালী চক্রবর্তী কিছু সাংবাদিকদের কাছে বলেন,’পাকিস্তান হচ্ছে মৌলবাদীদের দেশ । এই বাংলাদেশ নয় । বর্তমান সরকার একটি ব্যর্থ সরকার ।’ এরপর তিনি বলেন,ওরা যদি আমাদের দুটো মারে তাহলে আমরা ওদের একটা মারবো । হিন্দুদের জন্য শিক্ষক একটি জায়গা দেওয়া হোক যেখানে মুসলমানরা প্রবেশ করতে পারবে না ।’
তার এই মন্তব্যের পর ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ, বাংলাদেশ প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলেছে, ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের অবমাননা ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার প্রতিবাদে আজ ঢাকার বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর-এর সামনে সকল সনাতনী সংগঠন, মঠ-মন্দির, ছাত্র ও যুবসমাজের অংশগ্রহণে “ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ, বাংলাদেশ” এর আয়োজনে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত কর্মসূচিতে দেশব্যাপী সনাতনী সমাজের ন্যায্য দাবি, ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে অসংখ্য ভক্ত, ধর্মপ্রাণ সনাতনী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
তবে কর্মসূচি চলাকালে আমরা লক্ষ্য করেছি, চৈতালী চক্রবর্তী নামে একজন ব্যক্তি মূল বক্তব্যমঞ্চের বাইরে পৃথক স্থানে কিছু সাংবাদিকের কাছে ব্যক্তিগত ও বিতর্কিত বক্তব্য প্রদান করেছেন। এ বিষয়ে “ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ, বাংলাদেশ” এর দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে।
সকলের অবগতির জন্য স্পষ্টভাবে জানানো যাচ্ছে যে, উক্ত ব্যক্তির সঙ্গে “ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ, বাংলাদেশ”-এর কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই এবং তিনি আমাদের পক্ষে কোনো বক্তব্য দেওয়ার অনুমোদিত প্রতিনিধি নন। মূল মঞ্চে ঘোষিত ও উপস্থাপিত বক্তব্যসমূহই আমাদের সংগঠনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হবে। মূল মঞ্চের বাইরে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত ব্যক্তিগত মন্তব্য, মতামত বা বক্তব্যের দায়-দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব।
আমরা সকল গণমাধ্যমকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সনাতনী সমাজের সদস্যদের অনুরোধ জানাচ্ছি, কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য বা ব্যক্তিগত বক্তব্যকে সংগঠনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে প্রচার বা বিবেচনা না করার জন্য। “ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ, বাংলাদেশ” সর্বদা দায়িত্বশীল, শান্তিপূর্ণ ও শালীন আন্দোলনে বিশ্বাসী এবং সনাতনী সমাজের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে।।
