এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,২২ আগস্ট : ভারত ও চীন উভয়ই স্থিতিশীল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী হলেও, দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতিই সম্পর্কের অবস্থা অনেকাংশে নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর।শনিবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন যে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভারত-চীন সম্পর্ক একটি অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল। এর প্রধান কারণ ছিল সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি।
জয়শঙ্কর বলেন,”২০২০ সালের গ্রীষ্মকাল থেকে ২০২৪ সালের শরৎকাল পর্যন্ত আমরা এক অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলাম। এর প্রধান কারণ ছিল সীমান্ত এলাকার ঘটনাবলি। জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্কের জন্য সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা একটি মৌলিক পূর্বশর্ত। পরিশেষে, সুসম্পর্কের জন্য সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা একটি পূর্বশর্ত। সীমান্তের অবস্থাই মূলত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবস্থা নির্ধারণ করে ।”
তিনি বলেছেন, চীনসহ বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে ভারতের আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ভারতকে তার সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং জাতীয় স্বার্থে দৃঢ় থাকতে হবে।
জয়শঙ্কর বলেন,”বিশ্ব এখন প্রতিযোগিতাপূর্ণ। আমাদের শক্তি বাড়াতে হবে। আমাদের সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য করতে হবে। এর মধ্যে চীনও রয়েছে। কিন্তু আমাদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এর মোকাবিলা করতে হবে এবং সীমান্তে আমরা যেমন দৃঢ়, নিজেদের অবস্থানেও তেমনই দৃঢ় থাকতে হবে ।”
২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকার প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্কের তীব্র অবনতি ঘটে । পূর্ব লাদাখে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাত বেশ কয়েক বছর ধরে চলেছিল।
২০২৪ সালের অক্টোবরের মধ্যে পূর্ব লাদাখের দেপসাং ও ডেমচক এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে ভারত ও চীন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছিল। পরে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং কাজানে সাক্ষাৎ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। জয়শঙ্কর বলেছেন,ভারত ও চীন উভয়ই বৃহৎ অর্থনীতি এবং বহু ক্ষেত্রে একে অপরের বাজার। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলেও উভয় দেশই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাজনৈতিক ও কৌশলগত পর্যায়ে একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে উভয় দেশেরই আগ্রহ রয়েছে।
তিনি বলেন,ভারতের চেয়ে চীন অনেক আগে এবং অনেক বড় পরিসরে শিল্পায়িত হয়েছে। ভারত বিগত কয়েক দশকে উৎপাদন ও শিল্পায়ন সম্প্রসারণের অনেক সুযোগ হাতছাড়া করেছে। এখন সেই ঘাটতিগুলো সংশোধন করার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন যে, উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি আত্মনির্ভরশীল, শিল্পোন্নত ও শক্তিশালী ভারত শুধু চীনের সঙ্গেই নয়, বিশ্বের অন্যান্য প্রধান দেশগুলোর সঙ্গেও প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হবে।
জয়শঙ্কর আরও বলেছেন যে, চীনে ব্যবসা করতে গিয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা যে ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, সে বিষয়টি ভারত সেখানকার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
জয়শঙ্কর আরও বলেন যে, মার্কিন-চীন সম্পর্ককে ‘জি-টু’ হিসেবে বর্ণনা করার ব্যাপারে অনেকের সতর্ক থাকা উচিত। তিনি বলেন, যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্কটি মূলত প্রতিযোগিতামূলক, তবুও দেশ দুটি কিছু বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে একে অপরকে উপেক্ষা করতে পারে।তারা প্রতিটি বিষয়ে, প্রতিটি অঞ্চলে, সব সময়ে একে অপরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে না। তাই স্বাভাবিকভাবেই এটি একটি অত্যন্ত জটিল সম্পর্ক। পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নির্ধারণের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থই হবে ভারতের প্রধান চালিকাশক্তি।জয়শঙ্কর বলেছেন,’সেই সম্পর্কটি আমাদের স্বার্থ কতটা পূরণ করছে, তার ভিত্তিতে আমরা ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করব’ ।।
