এইদিন ওয়েবডেস্ক,হাওড়া,০২ অক্টোবর : হাওড়ার বরানগরে “লাভ জিহাদের” একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে । হিন্দু পরিচয় দিয়ে সম্পর্ক তৈরি করে এক তরুনীকে অন্তঃসত্ত্বা ও গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে । মঙ্গলবার তরুনীর অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ৷ পুলিশ জানিয়েছে,ধৃতের নাম শেখ ফারহাদ । মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার ধৃতকে হাওড়া আদালতে তোলা হলে ৫ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক ৷ শেখ ফারহাদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে । জানা গেছে, ডোমজুড় সলপ এলাকায় তার একটা সোনারূপোর দোকান থাকলেও নিজের দামি গাড়িতে ‘Advocate’ (আইনজীবী) স্টিকার লাগিয়ে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াত৷ আর এভাবেই নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে সে একের পর এক হিন্দু নারীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছে সে! এমনকি ছেলের এই প্রকার কুকীর্তির কথা স্বীকার করেছেন ওই ‘লাভ জিহাদির’ বাবা মোহাম্মদ ইলিয়াস ৷
প্রতারিত তরুনীর বক্তব্যের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সামনে এসেছে৷ তিনি জানিয়েছেন, ডোমজুড়ের এন জুয়েলার্স নামে একটি দোকানের মালিক শেখ ফারহাদের সঙ্গে তার ২০২৩ সালে ডেটিং অ্যাপে পরিচয় হয়। ফারহাদ নিজেকে রাজীব রায় বলে পরিচয় দেয় ৷ তারপর ঘনিষ্ঠতা গড়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সাথে সহবাস করতে থাকে । বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে গিয়ে দিনের পর দিন সহবাস। শহরের পাশাপাশি গোয়ায় নিয়ে গিয়েও তার সাথে সহবাস করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
মহিলার অভিযোগ,তিনি দুবার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জোর করে গর্ভপাত করায় রাজীব রায় ওরফে শেখ ফারহাদ। এমনিকি তার নগ্ন ভিডিও তুলে তা দিয়ে মহিলাকে ব্ল্যাকমেল করছিল বলে অভিযোগ ।
ওই মহিলার আরও দাবি, যুবকের দু’টি বিবাহ। একজনের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে। দ্বিতীয় জনের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছে । প্রতারিত মহিলার কথায়,’প্রথমে আমরা কাছে পরিচয় গোপন করে। ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর জানায় যে সে মুসলিম । তারপর বিয়ের কথা বললেই বেঁকে বসে । রেজিস্ট্রির কথা বলে ফ্ল্যাট কেনার কথা বলে এড়িয়ে যায় । এভাবে তার সঙ্গে একাধিকবার সহবাস করেছে। দু’বার আমার গর্ভপাত করিয়েছে। নার্সিংহোমে গেলেই তার প্রমাণ মিলবে। ওর টার্গেট শুধু হিন্দু মহিলারা । বেছে বেছে হিন্দু মহিলাদের জীবন নষ্ট করছে। আগে দু’টি বিয়ে রয়েছে। আমি চাই ওর কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তির হোক ।’
যুবতী আরও অভিযোগ করেন, বরানগর থানায় একবার রাহুল ওরফে ফারহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে তার মা-বোন ও ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে রীতিমতো হামলা চালায়। অবশেষে ডোমজুড় থানায় অভিযোগ দায়েরের পর যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যে একবার সহবাসের পরেও অভিযোগকারিনী কি তার প্রেমিকের প্রকৃত ধর্ম পরিচয় জানতে পারেননি ? যদি জেনেই থাকেন তাহলে সম্পর্কে থেকে বেরিয়ে এসে আইনের আশ্রয় নিলেন না কেন ? আর যদি ওই যুবক বিয়েতে রাজি হতেন তাহলে তিনি কি ইসলামে ধর্মান্তরিত হতেন ? উল্লেখ্য,সাম্প্রতিক সময়ে একটা প্রবনতা দেখা যাচ্ছে যে প্রেমিকের প্রকৃত ধর্মপরিচয় জেনেও অনেক হিন্দু মেয়ে সম্পর্ক জারি রেখে দেয় । হিন্দু প্রতারিত হলে ওঠে “লাভ জিহাদ”-এর প্রসঙ্গ।।

