এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,১৭ অক্টোবর : খাইবার পাখতুনখোয়া পাকিস্তান ইনসাফ মুভমেন্ট (পিটিআই) -এর নির্বাচিত সরকার, ১২ অক্টোবর অপসারণ করে জরুরি অবস্থা জারির পর পুলিশ ও সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে গণছুটির আবেদনের হিড়ক পড়ে গেছে । পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর এই প্রকার পদক্ষেপে পুলিশ কর্মকর্তা ও সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও সরকারি কর্মচারী ছুটির জন্য আবেদন করেছেন, যা ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রতি সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে, খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশ প্রধান কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন কোনো ধরনের অবহেলা না ঘটে, কর্মীদের উপস্থিতির ওপর নজর রাখা হয় এবং কেবলমাত্র অত্যন্ত জরুরি মানবিক ক্ষেত্রেই ছুটির অনুমতি দেওয়া হয়। নির্দেশনাটিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, আইনানুগ আদেশ অমান্য করা, বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকা কিংবা দায়িত্ব ত্যাগ করার মতো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল খাইবার পাখতুনখোয়ার কেন্দ্রীয় পুলিশ কার্যালয়ের অন্তর্গত পেশোয়ার পুলিশ মহাপরিদর্শকের কার্যালয় থেকে জারি করা একটা লিখিত বিবৃতিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে :
প্রদেশে বিদ্যমান অস্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, সকল আরপিও (RPO), ডিপিও (DPO), এসডিপিও (SDPO) এবং এসএইচও (SHO)-কে নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে যে, তাঁরা যেন নিজ নিজ এখতিয়ারভুক্ত এলাকায় কঠোর কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা এবং অপারেশনাল প্রস্তুতি নিশ্চিত করেন। এই দপ্তরের নজরে এসেছে যে, ৩,৯৮৬ জন পুলিশ সদস্য তাঁদের অনুমোদিত ছুটি শেষ হওয়ার পরও নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে আসেননি। বিষয়টি প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা এবং ‘খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশ আইন, ২০১৭’ ও সংশ্লিষ্ট শৃঙ্খলা বিষয়ক বিধিবিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
পাকিস্তানের ১৯৭৩ সালের সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদের অধীনে ১১.১০.২০২৬ তারিখে জারি করা জরুরি অবস্থা এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার লক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতির আলোকে, সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যে, তারা যেন অপারেশনাল নির্দেশাবলির কঠোর প্রতিপালন নিশ্চিত করেন এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্মীর নিজ নিজ দায়িত্বস্থলে উপস্থিতি বাধ্যতামূলকভাবে বজায় রাখেন। এখন থেকে কেবল অত্যন্ত মানবিক কারণ ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে ছুটি মঞ্জুর করা হবে না।
তদনুসারে, আইনানুগ আদেশের ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতা, অননুমোদিত অনুপস্থিতি, দায়িত্ব পরিত্যাগ বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রতি অবাধ্যতাকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হবে। সকল তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তাকে ‘খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশ আইন, ২০১৭’-এর ৭৭, ৭৯ ও ৮০ নম্বর ধারা এবং প্রযোজ্য শৃঙ্খলা বিষয়ক বিধিবিধানের কঠোর প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে। নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রমাণিত হলে, নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী কঠোর আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যা ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করবে।।

