এইদিন ওয়েবডেস্ক,উত্তরপ্রদেশ,১৯ অক্টোবর : উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড় জেলার দেহাঙ্গারি জামালপুর গ্রামে একটি দুর্গাপূজা প্যান্ডেলে মুসলিমদের পাথর ছোড়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার(১৬ অক্টোবর), মানিকপুর থানা এলাকায়, যখন সন্ধ্যার আরতির সময় বাজানো সঙ্গীতে ‘আপত্তি’ জানায় মুসলিম সম্প্রদায় । এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন৷ পুলিশ আসগর আলী, আফজাল আলী, আফসার আলী, হায়দার আলী, সরভার আলী ও ফয়জান আলী নামে ছয়জন অভিযুক্ত এবং তাদের পরিবারের অজ্ঞাতপরিচয় নারীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নবদুর্গা পূজার প্যান্ডেলে সন্ধ্যার আরতির পর রাত ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। শিশুরা ভজন উপভোগ করছিল এবং একই সময়ে প্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছিল। এলাকার মুসলমানরা ভজনের উচ্চ শব্দে ‘আপত্তি’ জানায় ।
এরপর আপত্তিটি তর্কে রূপ নেয়, যার পরে মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে গালিগালাজ ও মারধর শুরু হয়। অভিযুক্তরা লাঠি, ইট ও পাথর দিয়ে ভক্তদের ওপর হামলা করেছে। অভিযোগে আরও প্রকাশ করা হয়েছে যে, হামলাকারীরা দেবী দুর্গার প্রতিমা ভাঙচুর করেছে, নবগ্রহের জন্য সজ্জিত বেদিটি উল্টে দিয়েছে এবং একটি কলস, একটি সাউন্ড সিস্টেম ও নিকটবর্তী একটি ই-রিকশা ধ্বংস করেছে।
কিছু প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছে যে, প্যান্ডেলে উপস্থিত এক তরুণীকে মুসলমানরা হেনস্থা করে এবং তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলে। আশেপাশের মুসলিম বাড়ির মহিলারাও ছাদ থেকে প্যান্ডেলে থাকা ভক্তদের দিকে ইট ও পাথর ছুঁড়ে মারে।
ইন্সপেক্টর পঙ্কজ কুমার রাই এবং সার্কেল অফিসার শিব নারায়ণ বৈশের নেতৃত্বে একটি দল পুলিশ সদস্যদের নিয়ে গ্রামে পৌঁছায়। তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হস্তক্ষেপ করেন এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য কালকঙ্করের একটি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠান।অঙ্কিত মিশ্রের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আসগর আলী, আফজল আলী, আফসার আলী, হায়দার আলী, সরভার আলী ও ফয়জান আলী এবং অজ্ঞাতপরিচয় মুসলিম মহিলাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। পুলিশ অভিযুক্তদের মধ্যে পাঁচজনকে—আসগর আলী, আফজল আলী, আফসার আলী, হায়দার আলী ও সরভার আলীকে—গ্রেফতার করে। ফয়জান আলী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এই সংঘর্ষে সন্তোষ কুমার মিশ্র, মনোজ কুমার মিশ্র, সরিতা মিশ্র, সত্যম সরোজ, লাকি শর্মা, মুন্না সরোজ, মানকি সরোজ, মমতা সরোজ এবং বাসন্তী প্যাটেল সহ বেশ কয়েকজন হিন্দু আহত হয়েছেন। গুরুতর অবস্থা হওয়ায় পাঁচজন আহতকে একটি মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনও আহত হয়েছেন।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন,’এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অভিযুক্তদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
ঘটনাটির জের ধরে সৃষ্ট উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামে একজন সাব-ইন্সপেক্টর ও চারজন কনস্টেবল মোতায়েন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের দল ভ্রাম্যমাণ টহলও দিচ্ছে।।

