এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,১২ সেপ্টেম্বর : আজ শনিবার দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের সারাভান শহরের আবাসিক এলাকাগুলোতে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী ও অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং তা প্রায় ৮ ঘণ্টা ধরে অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা ‘হালভশ’। সংস্থার তথ্যমতে,নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত তিনটি গাড়িতে হামলা, একাধিক বিস্ফোরণ এবং স্থানীয় একটি মসজিদের আশপাশের রাস্তা অবরোধ করে রেখে দেওয়া হয়েছে । সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্য হতাহত হয়েছেন; তবে এই সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। বন্দুকধারীদের পরিচয় এবং সংঘর্ষের কারণ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি ।
সংস্থাটির দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ ভোর হওয়ার আগেই বখশান এলাকার একটি আবাসিক ভবনকে কেন্দ্র করে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। প্রায় আট ঘণ্টা পরও সেই সংঘাত অব্যাহত ছিল এবং তা মাদানি গ্র্যান্ড মসজিদ ও জাহাদাবাদ এলাকার কিছু অংশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
বিভিন্ন সূত্র থেকে একটানা গুলিবর্ষণ, বারবার বিস্ফোরণ এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহারের কথা জানা গেছে; লড়াইয়ের মাঝে মাঝে সংক্ষিপ্ত বিরতি থাকলেও তা আবার শুরু হয়েছে। হালভশ (Haalvsh) জানিয়েছে যে, এসব সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট অবস্থানগুলো তারা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।
খবর অনুযায়ী, কাছাকাছি এলাকায় বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়েছিল। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী আহত ও মৃতদেহগুলো সরিয়ে নিয়েছে এবং এর মধ্যে কয়েকজনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। হতাহতদের পরিচয় ও সঠিক সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আবাসিক এলাকার আশপাশের রাস্তা বন্ধ ।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী মাদানি গ্র্যান্ড মসজিদের আশপাশের রাস্তা ও যাতায়াতের পথগুলো বন্ধ করে দিয়েছে; মসজিদটি প্রাথমিক অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হওয়া বাড়িটি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে অবস্থিত। ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং সংঘাতস্থলের আশপাশে চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সূত্রমতে, বাড়ির ভেতরে থাকা বন্দুকধারীদের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গোলাগুলি হয়েছে; নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের কারও কারও পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী বালুচ পোশাক। বাড়িটি একজন স্থানীয় বাসিন্দার বলে জানা গেছে, তবে বন্দুকধারীদের সাথে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। ‘হালভশ’ (Haalvsh)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের কিছু স্থানের কাছাকাছি সাধারণ মানুষকে দেখা গেছে। লড়াই অব্যাহত থাকা ও রাস্তাঘাট বন্ধ থাকায় তাঁদের পরিস্থিতি অস্পষ্ট রয়ে গেছে এবং বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বন্দুকধারীদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা, প্রাথমিক অভিযানের কারণ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না—এসব বিষয়ও অজানা। সর্বশেষ তথ্য পাওয়া পর্যন্ত সামরিক ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
সারভান এলাকাটি সিস্তান ও বালুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এই প্রদেশটি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এবং এটি ইরানের প্রধানত সুন্নি মুসলিম বালুচ সংখ্যালঘুদের আবাসস্থল । প্রদেশটিতে সশস্ত্র বিদ্রোহের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে; তবে শনিবারের বন্দুকধারীদের সাথে কোনো পরিচিত গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি প্রতিবেদনে উঠে আসেনি।।
