এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,৩০ জুন : পশ্চিমবঙ্গে সংগঠিত অপরাধ, তোলাবাজি এবং গ্যাং কালচার দমনে রাজ্য বিধানসভায় ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি- সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল, ২০২৬’ বা জনপ্রিয়ভাবে ‘গুন্ডা দমন বিল’ সোমবার বিধানসভায় পাশ হয়েছে । বিলের পক্ষে ভোট পড়েছে ১৭৬, বিপক্ষে ৪১ এবং ভোটদানে বিরত ছিলেন ২০ জন বিধায়ক । বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাম আজ প্রকাশ্যে এনেছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ।
তিনি জানিয়েছেন,নওশাদ সিদ্দিকি,মোস্তাফিজুর রহমান,মোতাব শেখ, জুলফিকর আলি,কুণাল ঘোষ,শোভনদেব চ্যাটার্জি, বিমান ব্যানার্জি,মদন মিত্র,পুলক রায়,অশোক দেব,নয়না ব্যানার্জি,বাবর আলি,আলিফ আহমেদ, রুকবানুর রহমান,অসীমা পাত্র এবং তোহরাফ আলি হোসেন এই বিলে সই করেননি ।
দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন,সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করা, ভয় বা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি। মানুষের জীবন, ব্যক্তি বা সম্পত্তির জন্য গুরুতর বিপদ সৃষ্টি। শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত। বৈধ ব্যবসা বা জীবিকায় বাধা। বেআইনিভাবে উচ্ছেদ করে। সরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অবৈধ কাজ, সরকারি কোষাগারের বড় ক্ষতি করলে গুন্ডা বলে চিহ্নিত করা হবে। তিনি আরও বলেছেন,দোষী প্রমানিত হলে ১২ মাস পর্যন্ত আটক, নির্দিষ্ট জেলা থেকে ১ বছর পর্যন্ত বহিষ্কার এবং জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারের কড়া বিধান রয়েছে এই বিলে ।
‘গুন্ডা দমন বিল’ কী?
বলা হচ্ছে, এই বিলের লক্ষ্য সংগঠিত অপরাধ এবং বিশৃঙ্খলা দমন। এতে রাজ্য প্রশাসনের ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে ।রাজ্যে সম্পত্তি ধ্বংস, দাঙ্গা এবং উগ্র-ধ্বংসাত্মক আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটাতেই এই বিল আনা হয়েছে বলে গতকাল জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তিনি বলেন,এই বিল অনুযায়ী এবার থেকে আইনশৃঙ্খলার গুরুতর অবনতি থেকে হিংসাত্মক বিক্ষোভের আঁচ পেলে, ঘটনা ঘটার আগেই, অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ। এছাড়া যে কোনও সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি নষ্টের ক্ষেত্রে এবার থেকে গুন্ডাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তও করতে পারবে সরকার।
এই বিলে ঠিক কী রয়েছে?
খসড়া অনুযায়ী, কোনও জেলাশাসক (DM), পুলিশ কমিশনার (CP), কিংবা রাজ্য সরকার দ্বারা নিযুক্ত ডিআইজি (DIG) পদমর্যাদার কোনও পুলিশ আধিকারিক যদি মনে করেন যে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ‘গুন্ডা’ সমাজবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছেন বা লিপ্ত হতে পারেন, সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা যাবে বিলের বিধান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ওই ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট এলাকা বা জেলা থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য বহিষ্কার (Externment) করতে পারবেন।
প্রিভেন্টিভ ডিটেনশন বা আগাম আটক
আইনশৃঙ্খলার গুরুতর অবনতি বা হিংসাত্মক বিক্ষোভের আশঙ্কা থাকলে, অপরাধ ঘটার আগেই অভিযুক্ত বা সমাজবিরোধীদের চিহ্নিত করে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারবে । জেলাশাসক বা পুলিশ কমিশনাররা সরকারের অনুমোদন ছাড়াই ১৫ দিনের জন্য এবং রাজ্য সরকারের অনুমতিক্রমে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত বিনা বিচারে আটক রাখার ক্ষমতা পাবেন ।
আটক ব্যক্তিকে তাঁর আটকের কারণ জানানো বাধ্যতামূলক হলেও, জননিরাপত্তার স্বার্থে সরকার তা গোপন রাখতে পারে । তবে আটকের তিন সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টের বর্তমান বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা বোর্ড পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করবে ।
সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত
এই বিল অনুযায়ী, অপরাধের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি পূরণে অভিযুক্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও নিলাম করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে । যা হিংসা দমনে অত্যন্ত কার্যকরী বলে প্রমানিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে ।
ক্ষতিপূরণ কমিশন
ভাঙচুর বা হিংসাত্মক বিক্ষোভে সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হলে তার জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ে একটি বিধিবদ্ধ ‘ক্লেমস কমিশন’ গঠন করা হবে । এর মাধ্যমে শুধু অংশগ্রহণকারীরাই নয়, নির্দেশদাতা ও অর্থায়নকারীরাও আর্থিকভাবে দায়ী থাকবে । পাশাপাশি গতকাল বিধানসভায় ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’-ও পাশ হয়েছে । এই বিল মূলত রাজনৈতিক হিংসা, আন্দোলন বা দাঙ্গায় সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তিহানির ঘটনায় কড়া শাস্তির বিধান চালু করার লক্ষ্যে আনা হয়েছে।।
