এইদিন ওয়েবডেস্ক,পশ্চিম মেদিনীপুর,১৪ সেপ্টেম্বর : ফের পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটল এরাজ্যে ৷ উত্তর ২৪ পরগণা জেলার হালিসহরের পর এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা থানায় ২০ বছরের এক তরুনকে পিটিয়ে মেরে শৌচাগারে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে । মৃত তরুনের নাম রাহুল রুইদাসকে(২০)৷ তার বাড়ি চন্দ্রকোনা থানার বাগেশ্বরপুর এলাকায় । রবিবার রাতে তরুনের বাড়িতে ফোন করে তার মৃত্যুর খবর জানায় পুলিশ । পরিবারের অভিযোগ,লক আপের মধ্যে রাহুলকে অমানবিকভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে ৷ যদিও পুলিশের সাফাই,আত্মঘাতী হয়েছে ওই তরুন ।
জানা গেছে, ডাকাতির চেষ্টার অভিযোগে রাহুল রুইদাসসহ ৩ জন যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ । বাকি দু’জন হলেন বকুল রায় ও বাপি রানা । তারা চন্দ্রকোনা থানার ধানকুড়া এলাকার বাসিন্দা । গত ১২ সেপ্টেম্বর তাদের ঘাটাল আদালতে তোলা হয়। রাহুলকে ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয় । মঙ্গলবার তাকে ফের আদালতে তোলার কথা ছিল। কিন্তু তার আগে রবিবার রেতে রাহুলের বাড়িতে চন্দ্রকোনা থানা থেকে ফোন করে তার মৃত্যুর খবর দেওয়া হয় ।
রাহুলের বাবা বিফল রুইদাসের অভিযোগ,’আমার ছেলেকে হেফাজতে নিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে পুলিশ । আমি চাই অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের কঠোর শাস্তি হোক ।’ তবে পুলিশের তরফে দাবি করা হয়েছে, মৃত যুবক নেশায় আসক্ত ছিল । তাই নেশার করতে না পারায় শৌচাগারে গিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত্যু হয় তার। পরিবারের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি পুলিশের ৷
এর আগে উত্তর ২৪ পরগনার হালিশহর থানার লক আপে বিরজু কেওট নামে এক তৃণমূলকর্মীকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল পুলিশের বিরুদ্ধে । গত ৬ অগাস্ট তোলাবাজি, মারধর-সহ একাধিক অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয় । ব্যারাকপুর মহকুমা আদালত পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু । ৮ অগাস্ট ভোররাতে তাকে অচৈতন্য অবস্থায় কল্যাণীতে জেএনএম হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ । সেখানেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত তৃণমূলকর্মী বিরজু কেওত কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর জিনি শর্মার স্বামী ছিলেন । এই ঘটনায় হালিশহর থানার তদন্তকারী অফিসারকে (IO) সাসপেন্ড করা হয় এবং থানার ইন-চার্জকে (IC) ক্লোজ বা বদলি করে দেওয়া হয়।।

