এইদিন ওয়েবডেস্ক,দার্জিলিং,০৬ মে : কালিম্পং, কার্শিয়াং এবং মিরিক পুরসভার নথি সুরক্ষিত করার জন্য মুখ্য সচিবের কাছে আবেদন জানালেন দার্জিলিং-এর বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্ত ৷ মঙ্গলবার এই মর্মে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালাকে একটি চিঠি লিখেছেন । এক্স হ্যান্ডেলে চিঠিটি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন,’আজ আমি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব শ্রী দুষ্যন্ত নারিয়ালাকে কালিম্পং, কার্শিয়াং এবং মিরিক পৌরসভার নথিগুলি সুরক্ষিত করার জন্য একটি জরুরি অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখেছি।’ তিনি লিখেছেন,
‘গতকাল থেকে আমি সংশ্লিষ্ট নাগরিক এবং সংস্থাগুলির কাছ থেকে একাধিক আবেদনপত্র পেয়েছি, যেখানে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার কর্তৃক নিযুক্ত তত্ত্বাবধায়করা কালিম্পং, কার্শিয়াং এবং মিরিক পৌরসভার দুর্নীতি ফাঁসকারী সংবেদনশীল নথিগুলি নষ্ট করে দিতে পারেন।
আমি মুখ্য সচিবকে জানিয়েছি যে ২০২২ সাল থেকে এই তিনটি পৌরসভায় কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি এবং তৃণমূল কংগ্রেস সরকার একজন অনির্বাচিত ব্যক্তিকে তত্ত্বাবধায়ক চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করে পৌরসভাগুলি অবৈধভাবে চালাচ্ছিল। এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অন্যায় এবং সরকারি তহবিল ও সম্পদের ব্যাপক অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তাই আমি মুখ্য সচিবকে অনুরোধ করেছি যেন তিনি এই পৌরসভাগুলির সমস্ত কার্যনির্বাহী কর্মকর্তাদের সমস্ত নথি সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেন এবং তাঁদের কার্যালয় থেকে কোনো নথি বাইরে নিয়ে যেতে না দেন।’ তিনি আরও লিখেছেন,’মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী দুষ্যন্ত নারিয়ালার নেতৃত্বে… নরেন্দ্র মোদি জি, বিজেপি একটি দুর্নীতিমুক্ত সরকার নিশ্চিত করবে এবং যারা সরকারি তহবিল লুটপাটে লিপ্ত হয়েছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আসতে হবে।’
প্রসঙ্গত,বিজেপি জিততেই নবান্ন-সহ সরকারি অফিসে নজরদারির জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে । ফাইল লোপাট আটকাতেই এই বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য সচিব । নবান্নে ঢোকা-বেরনোর রাস্তাগুলিতে নজরদারি চলছে। রাজ্যের যত সরকারি অফিস আছে, সেখান থেকে যাতে কোনও ফাইল লোপাট করা না যায়, তার জন্যই এমন পদক্ষেপ । সরকারি কর্মীদের ব্যাগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুখ্যসচিবের তরফে নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছিল, কাগজ সরানো বা নথি নষ্ট যেন না হয়, তা দেখতে হবে। তার পরই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি, পুলিশও নবান্নে কড়া নজর রাখছে । যত কর্মী ঢুকছেন এবং বেরোচ্ছেন, তাঁদের প্রত্যেককে সার্চ করা হচ্ছে। দেখা হচ্ছে, কোনও ফাইল নিয়ে ঢুকছেন বা বেরোচ্ছেন কি না। অন্য সরকারি অফিসগুলিতেও কড়া নজরদারি চলছে। নবান্নের সব ঢোকা-বেরনোর রাস্তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।।
