প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,২৩ জুন : দল বিরোধী কাজের অভিযোগে পূর্ব বর্ধমান জেলার সঞ্জয় দাস এবং প্রাধানচন্দ্র পাল নামে দুই দলীয় নেতাকে সাময়িক বরখাস্ত করল বিজেপি। তাঁদের মধ্যে সঞ্জয় ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়ে ভোটে লড়ে হেরে গিয়েছেন। আর অপর জন হলেন জেলার জামালপুর ১ মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি। তাদের বিরুদ্ধে “দলের নির্দেশ অমান্য করে কিছু সমাজ বিরোধী ব্যাক্তিদের দলে যোগদান করিয়ে তাদের দ্বারা অসামাজিক কার্যকলাপ সংঘঠিত করা” এবং “একাধিক দল বিরোধী কার্যকলাপে” জড়িত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে । বিজেপির রাজ্য শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান প্রতাপ ব্যানার্জী সোমবার এই দুই নেতাকে দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।পাশাপাশি আগামী ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর চিঠিও তাঁদের ধরানো হয়েছে। শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির এই এই কঠোর সিদ্ধান্ত জেলার বিজেপি শিবিরে বেশ আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।
দলের শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির পাঠানো এই চিঠির বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার প্রধানচন্দ্র পালকে ফোন করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি শুধু বলেন,’আমি পার্টির রাজ্য দফতরে এসেছি। পরে কথা বলব।’ তবে এনিয়ে জালাপুরের একাংশ বিজেপি নেতা ও কর্মীরা যা বলেছেন তা যথেষ্টই চমকে দেওয়ার মতন। তাঁরা বলেন, বোমা-কাণ্ডে ধৃত সিপিএমেয় এক দম্পতিকে সকলের অগোচরে বিজেপিতে জায়গা দিয়েছিলেন প্রধানচন্দ্র পাল ।
তার কারণে আদি বিজেপি লোকজনের সঙ্গে প্রধানচন্দ্রের দূরত্ব শুরু হয়।এসব ছাড়াও বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর বুকে পেসমেকার যন্ত্র বসানো থাকা হৃদরোগে আক্রান্ত এক বিজেপি কর্মীকে মারধর সহ মহিলা কর্মীকে হেনস্থার অভিযোগ ওঠে প্রদানচন্দ্রের বিরুদ্ধে । এই ঘটনার প্রতিবাদে দিন দশেক আগে বিজেপির একটা বড় অংশ জামালপুর থানার সামনে জড়ো হয়ে প্রধানচন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ দেখায় ওই বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল, দামোদরের বালি খাদান নিয়ে প্রধানচন্দ্রের ‘মাথাব্যথা’ শুরু হয়েছে।সে দিন বিজেপির এক শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ অসীম বিশ্বাস অভিযোগ করেছিলেন,’সরকারী অনুমতিপ্রাপ্ত একটি খাদানে বালির দাম বেশী নেওয়া হচ্ছিল বলে তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। বেআইনি বালি খাদান বন্ধ করে দিয়েছিলেন।এরজন্য তাঁকে প্রধানচন্দ্র পালের রোষানলে পড়তে হয়।’ প্রধানচন্দ্র পাল তৃণমূলের দৃস্কৃতিদের এখন বেশী প্রাধান্য দিচ্ছেন বলেও অসীম বিশ্বাস অভিযোগ করেছিলেন।
বসন্ত পাঁজা নামে বিজেপির এক নেতার অভিযোগ, ‘যাঁরা পূর্বে আমাদের বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচার করেছে, তাঁদেরকে বিজেপি দলে ঢুকিয়েছে প্রধানচন্দ্র পাল। এতে আদি বিজেপি কর্মীরা অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। আমরা প্রধানচন্দ্র পালের এইসব অপকর্মের নিয়ে দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অভিযোগ করেছিলাম।’
অভিযোগের ভিত্তিতে কঠোর পদক্ষেপ নেয় বিজেপির শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি । এবারের ভোটে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করা সঞ্জয় দাসকে পাঠানো চিঠিতে শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি তার বিরুদ্ধে “ভোট পরবর্তী সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, তোলাবাজি, হুমকি,স্বাক্ষর জালিয়াতি সহ নানা দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে।” যদিও এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সঞ্জয় দাস। তিনি দাবি করেছেন,’এখনো পর্যন্ত তিনি দলের পক্ষ থেকে কোনও শোকজ চিঠি হাতে পাননি, ফোন মারফতও তাঁকে এ বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি দল যদি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর কাছে কোনও ব্যাখ্যা চায়, তাহলে তিনি অবশ্যই তার উত্তর দেবেন। বলে জানিয়েছেন ।।
