এইদিন ওয়েবডেস্ক,কোচবিহার,২৪ মে : বাংলাদেশের সঙ্গে সর্বাধিক পরিমাণ সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ । অধিকাংশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হলেও কোনো এক রহস্যময় কারনে ‘চিকেন নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডর সহ প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য পূর্ববর্তী মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার কেন্দ্রকে জমি হস্তান্তর করেনি বলে অভিযোগ ওঠে । আর ২০২৬-শে মমতাকে পরাজিত করে শাসনক্ষমতা হাতে নিয়েই কেন্দ্রকে জমি হস্তান্তরের কাজ সেরে ফেলেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং জমি চিহ্নিতকরণের সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ওপার থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের একাধিকবার বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ।
কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ সংলগ্ন তিনবিঘা করিডর সীমান্তে যখন বিএসএফ জমি মাপার ও কাঁটাতারের খুঁটি পোঁতার কাজ শুরু করে, তখন বিজিবির ৫১ নম্বর ব্যাটালিয়ন এবং ওপার বাংলার মুসলিম বাসিন্দারা এসে কাজে বাধা দেয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে যায় যে বিএসএফ রাইফেল তাক করে অ্যালার্ট মোডে বসে যায় ।
রিপোর্ট অনুযায়ী,তিন বিঘা করিডর এলাকায় সীমান্ত বেড়া সংক্রান্ত সমীক্ষা চলাকালে বিজিবি আপত্তি জানায় । এরপর বিএসএফ অবস্থান নেয় এবং পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে । ঘটনাস্থল মেখলিগঞ্জ (Mekhliganj) ব্লকের অন্তর্গত দহগ্রাম আকড়পোতা সীমান্তে জিরো পয়েন্ট , যা দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত ও করিডর রাজনীতির দিক থেকে সংবেদনশীল এলাকা। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যে কোনো বড় সংঘর্ষ -এর খবর নেই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক দধিরাম রায় ।
এছাড়া,বাংলাদেশের লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাঁটাতার বিহীন অংশে জমি চিহ্নিত করতে বাঁশের খুঁটি লাগালে বিজিবি আপত্তি জানায়। মালদার কিছু নদীমাতৃক ও স্থল সীমান্তে কাঁটাতারের মাপজোখ শুরু হতেই ওপার বাংলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ অংশ থেকে বিজিবি মুখোমুখি অবস্থানে এসে দাঁড়ায় । ফলে উত্তেজনা ছড়ায় । তবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি ও চিকেনস নেক করিডোর অঞ্চলে দ্রুত বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এখানে কিছু পকেট এরিয়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের জমি স্থানান্তর এবং চাষের জমির ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ রয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে । যদিও সরকার স্পষ্ট করেছে যে কৃষকদের পুনর্বাসন ও বিএসএফ-এর মাধ্যমে গেট পাসের ব্যবস্থা রাখা হবে। তবে এখন কৃষকদের তরফ থেকে সাহায্য করা হচ্ছে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যে বাংলাদেশ কেন পশ্চিমবঙ্গের উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে এত আপত্তি জানাচ্ছে ? আসলে নিজেদের উদ্দেশ্যের কথা বারবারই প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে বাংলাদেশের উগ্র ইসলামি সংগঠনগুলি। তারা একদিকে উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে অবাধ অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটাতে চায় । সেই সাথে ‘চিকেন নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরের দখল নিয়ে উত্তর-পূর্বের ৮ টি রাজ্য ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ গঠনের স্বপ্ন দেখে । কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তাদের সেই অশুভ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ।।
