বামপন্থী পোর্টাল “দ্য ওয়্যার”-এর সাংবাদিক আরফা খানম শেরওয়ানি বিভিন্ন মন্তব্যের কারনে খবরের শিরোনামে থাকেন৷ মূলত হিন্দুত্ববাদ,বিজেপি ও আরএসএস-এর সমালোচনা করতে দেখা যায় তাকে । নিজেকে নাস্তিক ও ধর্মনিরপেক্ষ দাবি করা আরফা খানম ভারতে সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খোমিনির শেষকৃত্যে যোগ দিতে ইরানে গিয়েছিলেন । সেখান থেকে একটা সেলফি পোস্ট করেছেন তিনি । ছবিতে তাকে মাথা সাদা-কালো আরবি স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে থাকতে দেখা গেছে । তিনি লিখেছেন,’এই ফিলিস্তিনি স্কার্ফটি ইরানে অত্যন্ত জনপ্রিয়। আয়াতুল্লাহ খামেনেইকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসা অনেককে আমি এটি পরা অবস্থায় দেখেছি।নিজেও একটা পরার সিদ্ধান্ত নিলাম।ইরান সফরের দ্বিতীয় দিন।’
তবে ভারতে তাকে সাধারণ ধর্মী পোশাক পরতে দেখা যায় না । এমনকি পশ্চিমি ফ্যান্সি পোশাক পরেও তার একাধিক ছবি রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ ফলে ইরানে গিয়ে তার স্কার্ফ পরা নিয়ে সঙ্গত কারনেই প্রশ্ন উঠছে । উল্লেখ্য,ইরানে প্রকাশ্যে মেয়েদের চুল ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক । আর আরফা খানম শেরওয়ানি সেই সরকারি নির্দেশ মেনেই স্কার্ফ দিয়ে নিজের চুল ঢাকতে বাধ্য হয়েছেন বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করে তার নাস্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা।
আরুহি রেড্ডি নামে একজন এক্স ব্যবহারকারী লিখেছেন,”ভারতে জিহাদী আরফা খানম শেরওয়ানি মেকআপ করেন, আঁটসাঁট পোশাক পরেন এবং যেখানে খুশি সেখানে যান। কিন্তু তারপরেও তিনি সবসময় বিজেপি, আরএসএস এবং হিন্দুদের নারী-বিরোধী বলে থাকেন।অন্যদিকে, যখন তিনি ইরানের মতো কোনো ইসলামিক দেশে যান, তখন তাঁকে মেকআপ তুলে ফেলতে হয়, হিজাব ও ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হয় এবং মাথা ঢেকে রাখতে হয়। তারপরেও তিনি খামেনেইয়ের প্রশংসা করেন, যিনি নারীদের প্রতি এত নিষ্ঠুরতা করেছেন।এই দ্বৈত নীতির কারণেই আমি এই লোকগুলোকে ঘৃণা করি।”
জাহাক তানভীর লিখেছেন,’আরফা দিদি একটি বিদেশি উদ্দেশ্য প্রচারের জন্য ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে অবাধে ভারত থেকে ইরানে ভ্রমণ করেছিলেন। অথচ, দেশে ফিরে তিনি দাবি করছেন যে ভারতে মুসলমানদের কোনো স্বাধীনতা নেই। আমার কাছে এই দাবিটি অত্যন্ত বিদ্রূপাত্মক এবং স্ববিরোধী বলে মনে হয়।’
রূপা মূর্তি লিখেছেন,’ইরানের ইসলামী পোশাক আইন অনুসারে হিজাব পরিধান করা এবং এর মাধ্যমে নিরাপদ ও জীবিত থাকা, ইরানের নারীদের জন্য একমাত্র বাস্তবসম্মত উপায়।সুতরাং হ্যাঁ, আরফা খানুম শেরওয়ানি বেছে নিয়েছেন। তিনি তাঁর সামনে থাকা একমাত্র উপায়টিই বেছে নিয়েছেন: হিজাব পরে নিরাপদ ও জীবিত থাকা। তাকে আপনাকে এই বিশ্বাস করাতে দেবেন না যে ইরানে হিজাব পরাটা একটি ঐচ্ছিক বিষয়। এটা তা নয়।’।
