এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,১৪ জুন : বিদেশী শরণার্থীদের দ্বারা একের পর এক ছুরি হামলার ঘটনার পর ব্রিটেনেনমুসলিম বিদ্বেষ ব্যাপক বেড়ে গেছে । বেছে বেছে বিদেশী মুসলিম অভিবাসীদের ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে । এবারে বোল্টন শহরের শার্পলস এলাকায় ৪২ বছর বয়সী স্থানীয় ইমাম হাসান প্যাটেলের বসতবাড়িতে একটি ভয়াবহ মোলোটভ ককটেল (পেট্রোল বোমা) হামলা চালানো হয়েছে। গত ১০ জুন, বুধবার স্থানীয় সময় ৯:২০ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় বাড়িতে ইমামের স্ত্রী, ৪ সন্তান এবং এক ভাগ্নেসহ মোট ৭ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। হামলাকারী জানালার কাচ ভেঙে জ্বলন্ত অগ্নিবোমা ভেতরে ছুড়ে মারে । তবে বরাত জোরে প্রাণে বেঁচে যায় ইমাম ও তার পরিবার । তবে এই ঘটনায় ব্রিটেনের পুরো মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ এটিকে একটি ‘পরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট হামলা’ হিসেবে অভিহিত করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।
গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ (GMP) জানিয়েছে, ১০ জুন বুধবার রাত ৯:২০ মিনিটে বোল্টনের শার্পলস এলাকার একটি আবাসিক বাড়ি থেকে অগ্নিসংযোগের ঘটনার জরুরি কল আসে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত সেখানে পৌঁছান।গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর মাইক শার্পলস এক বিবৃতিতে বলেন,”আমাদের সমাজে এই ধরনের কাপুরুষোচিত ও সহিংস ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কাউকে ভয়ভীতি বা হুমকির মুখে বসবাস করতে দেওয়া হবে না। সৌভাগ্যবশত এই হামলায় কেউ আহত হননি, কিন্তু এই অগ্নিসংযোগের পরিণতি কতটা ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী হতে পারত, তা সহজেই অনুমেয়।”
চিফ ইন্সপেক্টর আরও জানান, পুলিশ প্রাথমিক প্রমান পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হয়েছে যে এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পরিকল্পিত হামলা’। তবে এই মুহূর্তে জনসাধারণের জন্য বড় কোনো হুমকি নেই বলে তারা আশ্বস্ত করেছেন। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে এবং ঘটনায় জড়িতদের সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে তা অবিলম্বে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
ইমাম হাসান প্যাটেল কর্তৃক প্রকাশিত বাড়ির সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজে হামলার দৃশ্য উঠে এসেছে। ফুটেজে দেখা যায়, কালো রঙের পোশাক পরিহিত এবং মুখ ঢাকা এক ব্যক্তি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বাড়ির দিকে এগিয়ে আসেন । এরপর তিনি একটি কাপড়ে তরল দাহ্য পদার্থ ঢেলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন । এরপর সজোরে বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে জ্বলন্ত বোমাটি ঘরের ভেতর ছুড়ে মারেন । শুধু তাই নয়, আগুন যাতে আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, সেজন্য সে জানালার ভাঙা অংশ দিয়ে আরও দাহ্য তরল স্প্রে করেন, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে।
এই অভিজ্ঞতার পর ইমাম হাসান প্যাটেল ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এই “নৃশংস এবং নির্মম অগ্নিসংযোগের ঘটনা” তার পুরো পরিবারকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এই হামলা কেবল তাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস করেনি, বরং তাদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছিল। বিশেষ করে তার ছোট ছোট সন্তানরা এই ট্রমা থেকে বের হতে পারছে না।
হাসান প্যাটেল বলেন, তিনি সব সময় আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করেন এবং সব ধর্মের ও মতের মানুষের সাথে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন,”আমরা বুঝতে পারছি না কেন আমাদের এভাবে নিশানা করা হলো। আমাদের সাথে কারও কোনো শত্রুতা নেই। পুলিশ এখনো এটিকে সরাসরি ‘নফরত ছড়ানো অপরাধ’ বা হেট ক্রাইম হিসেবে তালিকাভুক্ত করেনি, তবে আমরা দাবি জানাই—এই হামলার পেছনে বর্ণবাদী, ইসলামভীতি বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা যেন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এবং গভীরভাবে তদন্ত করা হয়।”
