প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,১৩ অক্টোবর : আত্মগোপন করে থেকেও মিললো না রেহাই।
চিকিৎসা গাফিলতিতে শহর বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে শিশু আরণ্যর মৃত্যুর ঘটনায় এবার গ্রেপ্তার হলেন সংশ্লিষ্ট অ্যানেসথেটিস্ট (Anaesthetist) । ধৃতের ধাম বনোজ কুমার দে। সোমবার সন্ধ্যায় বোলপুরের একটি রিসর্ট থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে বর্ধমান থানার পুলিশ ।শিশু মৃত্যুর ঘটনায় কিছুদিন আগেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ভুয়ো ডাক্তার শেখ সাইদুল হক।অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক সাজার দাবি করেছেন মৃত শিশুর পরিবার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,গত ২ সেপ্টেম্বর শহর বর্ধমানের নাবাবহাটের ’লাইফ কেয়ার’ নামে একটি নার্সিংহোমে মৃত্যু হয় ৪ বছর বয়সী শিশু আরণ্যর। ঘটনার পরেই শিশুটির বাবা জয়ন্ত রায় বর্ধমান থানা এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরে চিকিৎসায় গাফিলতিতে শিশুরটির মৃত্যু হওয়ার অভিযোগ জানান।সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।পাশাপাশি,স্বাস্থ্য দফতরও অভিযোগের তদন্তে নামে।
এই ঘটনায় স্বাস্থ্য দফতরের একটি রিপোর্ট পুলিশের কাছে জমা পড়ে। ওই রিপোর্টে ভুল চিকিৎসার কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।তার পরেই তদন্তে আরও তৎপরতা বাড়ায় পুলিশ।শিশু মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১১ সেপ্টেম্বর
পুলিশ কৌশিক দত্ত নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে । তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালায় পুলিশ। জেরায় সে শিশুর মৃত্যুতে গাফিলতির কথা স্বীকার করে । তারই মধ্যে গা ঢাকা দিয়ে দেয় শিশুর অস্ত্রপচার করা শেখ সাইদুল হক,অ্যানেস্থেটিস্ট বনোজ কুমার দে এবং নার্সিংহোমের দুই মালিক শেখ সুরজ আহম্মেদ ও আনিসুর মণ্ডল ।
গা ঢাকা দেওয়া এইসব অভিযুক্তদের খোঁজে নামে পুলিশ।একই সাথে পুলিশ শেখ সাইদুলের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে জানতে পারে সাইদুল বিহার মেডিকেলের রেজিস্ট্রেশন সংগ্রহ করে বাংলায় চিকিৎসা করছিল। সেই রেজিস্ট্রেশন ’ভুয়ো’ বলে পুলিশ জানাতে পারার পরেই তার বিরুদ্ধে ’লুক আউট’ নোটিশ জারি করা হয়। এইসবের মধ্যেই পুলিশ উত্তর ২৪ পরগনার চিনারপার্ক এলাকার একটি আবাসনে গা ঢাকা দিয়ে থাকা নার্সিংহোমের দুই মালিক সুরজ এবং আনিসুরকে গ্রেপ্তার করে । রেহাই পান নি দুবাই পালিয়ে যাওয়া ভুয়ো ডাক্তার সাইদুল হক। গত ৬ অক্টোবর রাতে সাইদুল হক দুবাই থেকে দিল্লি বিমানবন্দরে নামতেই সেখান কার পুলিশ তাকে পাকড়াও করে।এই খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ দিল্লি পৌছে গিয়ে সাইদুলকে গ্রেপ্তার করে। বাকি ছিল অ্যানাস্থেটিস্ট বনোজ কুমার দে।পুলিশ তাকেও সোমবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে ফেলে।
পুলিশ সূত্রে খবর মিলেছে,বেশ কিছু দিন ধরেই অভিযুক্ত অ্যানেসথেটিস্টের সন্ধান চলছিল। শেষ পর্যন্ত মোবাইল ফোনের টাওয়ারের অবস্থান অনুসরণ করে তদন্তকারীরা তাঁর অবস্থান চিহ্নিত করেন।সেই সূত্র ধরেই সোমবার সন্ধ্যায় বর্ধমানের খোসবাগানের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।চার বছরের শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অ্যানেসথেটিস্টের ঠিক কী ভূমিকা ছিল, চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না এবং এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছেন কি না, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে ।।

