এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৩ মে : গতকাল দুপুরে কলকাতার তিলজলা থানা এলাকার টালিখোলা মসজিদের কাছে একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ২ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে । এই ঘটনার পর কঠোর পদক্ষেপ নিল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্যের বিজেপি সরকার । মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান যে ইতিমধ্যেই ওই কারখানার দুই মালিক শেখ নাসির এবং সামির মহম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । পাশাপাশি অবৈধভাবে নির্মিত ওই কারখানাটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি । তিলজলা অগ্নিকাণ্ডের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন,’এটাই শেষ ঘটনা ধরে নিন। এই ধরনের বেআইনি কাজ করতে দেব না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে ।’ এই মন্তব্যের ঠিক কয়েক ঘন্টার মধ্যেই এমন কঠোর পদক্ষেপ নিলেন তিনি ।
আজ বুধবার বিধানসভায় বিধায়কদের শপথ অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে বিধায়ক হিসাবে শপথ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর নবান্ন থেকে প্রশাসনিক বৈঠক করেন তিনি। ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম নবান্ন থেকে বৈঠক করছেন শুভেন্দু। বৈঠক শেষে মুখ্যসচিবকে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিলজলা অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গে বলেন,’গতকাল তিলজলায় একটা ঘটনা ঘটে । যাতে ২ জন মারা গিয়েছিলেন এবং ৩ জন আহত হয়েছিলেন । কালকেই আমরা চারটের দপ্তরের সমন্বয় কমিটি করেছিলাম । আজকে ফার্স্ট আওয়ারে কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলেছিলাম । এই কমিটির রিপোর্টে যে পাওয়া গেছে তাতে আমাদের রাজ্যে বা কলকাতার ক্ষেত্রে একটি অশনি সংকেত । ওই অবৈধ ওয়ার্কশপ বা কারখানায় কোন বিল্ডিং প্ল্যান নেই । অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও বিদ্যুতের বিষয়ে প্রাথমিক নিয়মকানুন মানা হয়নি । সম্পূর্ণ অবৈধ ৷ আমরা এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কতগুলো পদক্ষেপ নিয়েছি ।’
তিনি বলেন,তিলজলা থানায় ২২৬ নম্বর মামলায় অবৈধ কারখানার মালিক শেখ নাসির এবং সামির মহম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আজ সকালে । আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকে ভাই ভাবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছি । এবং বিদ্যুৎ সচিবের মাধ্যমে সিইএসসি-কে জানানো হয়েছে যে কসবা,তিলজলা, মোকিনপুর ইকবালপুর প্রভৃতি এলাকাগুলিতে দ্রুত ইন্টারল্যান অডিট করে যাদের বিল্ডিং প্লানের অনুমোদন নেই তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে ।’
তিনি আরো বলেন, আমাদের পৌর নগর উন্নয়ন মন্ত্রকের সচিব-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে বিএমসির উদ্যোগে কলকাতা পুলিশের সাহায্য নিয়ে ১ দিনের মধ্যে ওই অবৈধ নির্মান ভেঙে ফেলার জন্য। এবং একইভাবে জলের লাইন কেটে দেওয়ার জন্য কেএমসিকে বলা হয়েছে । আমরা এতে জিরো টলারেন্স নীতি নিচ্ছি।’।
