ভারতকে কার্যত চারদিক দিয়ে ঘিরে আছে শত্রু রাষ্ট্রগুলি । শত্রুর তালিকায় নবতম সংযোজন বাংলাদেশ । বর্তমানে ভারত বিরোধী ষড়যন্ত্রের এপি সেন্টার হয়ে গেছে এই প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি। সেই সাথে ভারতের অভ্যন্তরে থাকা দেশদ্রোহীরা ভিতর থেকে দেশকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত । দিল্লির জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের(জেএনইউ) দেশদ্রোহীদের তোলা “ভারত তেরি টুকরো হোঙ্গে ইনসাল্লাহ ইনসাল্লাহ” শ্লোগান, এখন মনে হচ্ছে বাস্তব পরিণতি পেতে চলেছে ।
আপাতভাবে ভারতের সবকিছু ঠিকঠাক মনে হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের জাতীয়তাবাদী সরকারকে সরাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সুগভীর ষড়যন্ত্র চলছে । একদিকে মার্কিন ডিপস্টেট,অন্যদিকে চীন মিলে পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে । তাদের সঙ্গে সেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে ভারতের ভিতরে থাকা দেশদ্রোহীরা । ওয়াকিবহাল মহল এনিয়ে চরম উদ্বিগ্ন । চিন্তিত কেন্দ্র সরকারও । যার প্রতিফলন হল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের হঠাৎ পশ্চিমবঙ্গ সফর ।
শুক্রবার রাতে অমিত শাহ কলকাতায় বিমানে নেমেই ছোটেন উত্তরবঙ্গের বাগডোগরায় । পরের দিন সেনাকর্তারা ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সাথে নিয়ে তিনি পরিদর্শন করেন অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেন নেক । পরে উত্তরকন্যায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সেনাবাহিনীকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন অমিত শাহ । তার মধ্যে রয়েছে, সীমান্ত এলাকায় দ্রুত ফেন্সিংয়ের কাজ শেষ করা,উপদ্রুত এলাকায় ত্রিস্তরীয় ফেন্সিং এবং সীমান্ত সুরক্ষায় আরও আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার প্রভৃতি ।
চিকেনস নেক বা শিলিগুড়ি করিডরের ওপর সবসময়ই নজর থাকে চিনের। আবার বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যখন কট্টর ভারত বিরোধিতা শুরু হয়, তখন ছাত্র নেতা থেকে শুরু করে কট্টরপন্থী নেতাদের মুখে শোনা গেছে চিকেনস নেককে আলাদা করার হুমকি। সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আনসারুল্লা টিম প্রধান জসিমউদ্দিন রহমানি বলেছিল,”আমরা সেভেন সিস্টার্সকে বলে দেব, চিনকে বলে দেব চিকেনস নেক বন্ধ করে দাও।”
অবশ্য চীনও বসে নেই । চিকেন নেকের মাত্র ১৬ কিলোমিটার দুরে বাংলাদেশের লালমনিরহাটে আধুনিক বিমানবন্দর নির্মান করেছে চীন । বাংলাদেশের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সি-পোর্ট মোংলা বন্দর এখন চীনের হাতে । ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি, অর্থাৎ সেভেন সিস্টার্স এর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে । আর সেই উদ্বেগের প্রতিফলন হল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর আচমকা বঙ্গ সফর ।
দাবি করা হচ্ছে যে,সেভেন সিস্টার্স-এর খ্রিস্টান অধ্যুষিত তিন রাজ্য এবং বাংলাদেশের একাংশ নিয়ে নতুন একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের দিকে পরিস্থিতি এগিয়ে যাচ্ছে । আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশের নাগরিক মহম্মদ রেজাবুল করিম এমনই দাবি করেছেন । বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে একটা প্রতিবেদন লিখেছেন । তার লেখা প্রতিবেদনটি নিচে তুলে ধরা হল :
বিশ্ব মানচিত্রে অচিরেই আরও একটি নতুন দেশের জন্ম হতে যাচ্ছে। এটি বাংলাদেশের পাশেই। অবাক হচ্ছেন? অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের একটি অংশ সেই রাষ্ট্রের সাথে যোগ হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে! বিশ্ব ইতিহাসে কোনো দেশের মানচিত্রই শতভাগ অক্ষত নয়।
বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষে সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিস্টান জনসংখ্যা অধ্যুষিত একটি নতুন রাষ্ট্র আমরা খুব শীঘ্রই দেখতে পাব। একটু খোলাসা করে বলি—বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি সীমান্তবর্তী ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’-এর মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও মনিপুরের একটি অংশ নিয়ে এই রাষ্ট্রটি সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। পশ্চিমা অনেক দেশ এ ব্যাপারে কাজ করছে। কিন্তু কীভাবে? খ্রিস্টান মিশনারি, চ্যারিটি ও উন্নয়ন সহযোগী বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে।
ইতিমধ্যে মিজোরাম (৮৭%), নাগাল্যান্ড (৯০%) এবং মনিপুরের (৪১.৪%) জনসংখ্যার ধর্মীয় পরিচয় বদলে ফেলা হয়েছে। যে হারে সেভেন সিস্টার্সের জনগোষ্ঠী খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হচ্ছে, আগামী দুই-তিন দশকের মধ্যে এই অঞ্চলের পুরো জনগোষ্ঠীর রূপান্তর কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার এই ভারতীয় প্রদেশগুলোর জনসংখ্যার ধর্মীয় পরিচয় নানা অর্থনৈতিক ও শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা দিয়ে পাল্টে ফেলা হয়েছে; মানুষ স্বেচ্ছাতেই সেদিকে ঝুঁকছে।
তবে আদিবাসীদের খ্রিস্টধর্মে রূপান্তর প্রক্রিয়াটি জোর করে হচ্ছে না—মানুষ দলে দলে সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করছে। বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলাও এই প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি একই কারণে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।
মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও মনিপুরের একাংশ নিয়ে নতুন একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্রের ঘোষণা বা বিশ্ব মানচিত্রে এর আগমন ঘটতে আর খুব বেশি দিন লাগবে না। নিকট অতীতে যেভাবে সুদান ভেঙে দক্ষিণ সুদান এবং ইন্দোনেশিয়ার তিমুর দ্বীপ থেকে পূর্ব তিমুর সৃষ্টি হয়েছে, ঠিক একই কায়দায় কিংবা ভিন্ন কোনো সৃজনশীল উপায়ে তা ঘটবে—এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।
তিনি লিখেছেন,আমাদের দেশের আলেম সমাজের অনেকে নিজেদের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে বিতর্কে ব্যস্ত। একসময় খ্রিস্টানরাও এমন করত, কিন্তু এখন সারা বিশ্বের খ্রিস্টানরা বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ। আমাদের আলেমরা যদি খ্রিস্টান মিশনারিদের মতো ইসলামের দাওয়াত ও কিছু সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের আদিবাসী ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কাছে দল বেঁধে যেতেন, তবে এসব অঞ্চলের একটি বড় অংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীতে রূপান্তরিত হতো। আমাদের মনোযোগ সেসব বিষয়ে নেই। আমরা ওয়াজ-মাহফিলে বড় বড় কথা বলি; রাতের আঁধারে বিভিন্ন মহল থেকে নানা রকম সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করি; কোটি কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে শাপলা চত্বরে শ’ শ’ মানুষের হত্যার বিচারের জন্য সোচ্চার হই না; কিন্তু ইসলামের দাওয়াত নিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে যেতে চাই না। নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি ও দুর্নীতিতে ব্যস্ত থাকলে দীনি দাওয়াত দেওয়ার সময় কোথায়?
এখনও সময় আছে। বাংলাদেশের অখণ্ডতা রক্ষায় আলেম সমাজের প্রতি অনুরোধ, আপনারা ইসলামের দাওয়াত ও বাস্তবিক কিছু সুযোগ-সুবিধা বা চ্যারিটি নিয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ুন। এতে দেশ রক্ষা পাবে এবং আপনারা দুনিয়া ও আখেরাত—উভয় ক্ষেত্রেই লাভবান হবেন। যাহোক, বাংলাদেশের পাশে সেভেন সিস্টার্সে একটি বৃহত্তর খ্রিস্টান রাষ্ট্র শান্তিপূর্ণভাবেই আবির্ভাব ঘটবে বলে আমি মনে করি। আর এটি হবে অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন দেখা মানুষগুলোর জন্য একটি উপযুক্ত শিক্ষা।
তবে তার এই দাবি যে অমূলক নয়,তার লক্ষণ সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিতদের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে । সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের খ্রিস্টান ধর্মালম্বিরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার করে হিন্দুদের ধর্মান্তরিত হতে অনুপ্রাণিত করছে । যদিও এর প্রতিবাদ হচ্ছে না তা নয় । কিন্তু বাঙালি খ্রিস্টান ধর্মালম্বীরা ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে । বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগের বলে মনে করছেন অনেকে। আর সেই কারনে বিদেশ থেকে অবৈধ লেনদেন বন্ধ করতে অতি শীঘ্র বিদেশী অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন (FCRA) আরও কঠোর করেছে মোদী সরকার। কথিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা (NGO) এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কীভাবে বিদেশী অর্থ গ্রহণ ও ব্যবহার করছে, তার ওপর নজরদারি বাড়াতে সরকার সংশোধনী বিল এনেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিদেশী তহবিলকে নিয়ন্ত্রণ করা। সোমবার (২০ জুলাই) এই বিল সংসদে পেশ করা হতে পারে । তবে বিলের বিরোধীতা করেছে কংগ্রেস ।।
