এইদিন ওয়েবডেস্ক,তেলেঙ্গানা,১৭ জুলাই : কংগ্রেস শাসিত তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদের একটি বেসরকারি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণির এক হিন্দু পড়ুয়াকে ‘কালিমা’ ও ‘সুরা ফাতিহা’র মত ধর্মীয় পাঠ আবৃত্তির হোমওয়ার্ক দেওয়ার অভিযোগে এক শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিভাবক ও স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে এই সিদ্ধান্ত নেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানার রাজধানী হায়দরাবাদের সাঈদাবাদ এলাকার “সাকসেস দ্য স্কুল” (SUCCESS The School) নামে একটি বেসরকারি স্কুলে । ওই শিক্ষিকার নাম শেখ আয়েশা পারভিন(Shaik Aisha Parveen) ।
গত ১৫ জুলাই স্কুলে প্রিন্সিপাল স্বাক্ষরিত বহিষ্কার পত্রে(TERMINATION ORDER) লেখা হয়েছে : “সায়ীদাবাদ শাখায় সাকসেস দ্য স্কুল-এ মাদার টিচার হিসেবে আপনার চাকরি ১৬-০৭-২০২৬ তারিখ থেকে সমাপ্ত করা হলো। এছাড়াও আপনাকে জানানো হচ্ছে যে, সাকসেস গ্রুপ অফ এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস-এ ভবিষ্যতে চাকরির জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে আপনি স্থায়ীভাবে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।”
কালিমা’ ও ‘সুরা ফাতিহা কি ?
উইকিপিডিয়া অনুযায়ী,’কালিমা’ (Kalima) শব্দের অর্থ হলো বাক্য বা বাণী। ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস ও সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য এগুলি পাঠ করা হয় । অর্থাৎ অমুসলিমদের ধর্মান্তরিত করার ক্ষেত্রে এই ইসলামিক পাঠ অনিবার্য । যে ৬টি কালিমা রয়েছে, যার মধ্যে প্রথম ও প্রধান হলো ‘কালিমা তাইয়্যেবা’। এই পাঠের অর্থ হল “আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, হযরত মহম্মদ আল্লাহর প্রেরিত রাসুল” ।
আর সূরা ফাতিহা’ হলো কুরআনুল কারীমের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূরা। একে ‘উম্মুল কুরআন’ বা কোরানের মূল ভিত্তি বলা হয়। এটি ৭টি আয়াত নিয়ে গঠিত এবং এটি নিয়মিত নামাজের মধ্যে পাঠ করা বাধ্যতামূলক । অর্থাৎ, সাঈদাবাদ এলাকার “সাকসেস দ্য স্কুল”-এর বহিষ্কৃত শিক্ষিকা শেখ আয়েশা পারভিন হিন্দু শিশুদের অজান্তেই তাদের ধর্মান্তরিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল বলে অভিযোগ ।
কিন্তু এক পড়ুয়ার ডায়েরির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় পড়ে যায় । পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে।
জানা গেছে, ওই শ্রেণিতে মোট ২৫ জন শিক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে ২৪ জন মুসলিম এবং একজন হিন্দু শিক্ষার্থী। অভিযোগ অনুযায়ী, পুরো শ্রেণিকেই ‘কালিমা’ ও ‘সুরা ফাতিহা’ পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে ওই হিন্দু শিক্ষার্থীর অভিভাবক স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন এবং এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরে অন্য অভিভাবকরাও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা এ ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে পুলিশি তদন্তেরও দাবি জানান। হায়দরাবাদের চারমিনার জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) খারে কিরণ প্রভাকর বলেন, ‘ঘটনাটি শিক্ষা নীতি ও স্কুলের নিজস্ব নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিষয়টি জানার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) নেতা বিনোদ বানসাল এই ঘটনাকে ‘শিশুদের সাংবিধানিক অধিকার ও অভিভাবকদের আস্থার ওপর আঘাত’ বলে মন্তব্য করেছেন। বিজেপির মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষককে বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এই ঘটনায় আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।।
