এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,১৬ জুলাই : আজ রথযাত্রা । সেই উপলক্ষে দুর্গাপূজার খুঁটি পুজো হচ্ছিল । সেই সময় এক মুসলিম যুবক সেখানে ঢুকে পুজার সামগ্রী লাথি মেরে ফেলে দিলে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় । ঘটনাটি ঘটেছে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি দুর্গাপূজা কমিটিতে । অভিযুক্তের নাম ইয়ামিন নাবিল(২৬) । সে বন্দর উপজেলার হাফেজীবাগ এলাকার প্রয়াত নূর মহম্মদের ছেলে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর বিষয়টি লঘু করে দেখানোর জন্য ওই চরমপন্থীর পরিবার তাকে পাগল প্রমান করার চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে ।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের সদর মডেল থানার অদূরে নয়ামাটির শ্রী শ্রী দরিদ্র ভাণ্ডার কালী মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে । মন্দিরের পুরোহিত কমল চক্রবর্তী বলেন,আজ দুপুরে দুর্গাপূজার খুঁটি পুজো চলছিল । ক্লাবঘরে পূজার আয়োজন করা হয়েছিল । সেই সময় সময় ওই যুবক মন্দিরে ঢুকে পূজার জন্য সাজানো সামগ্রী লাথি মেরে ফেলে দেয় । এমনকি মন্দিরের লোকজনকেও লাথি মারে । পরে উপস্থিত লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় । তিনি বলেন,’আমরা নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম একসঙ্গে বসবাস করছি। কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই ।’
অভিযুক্তের দাদা অমিত হাসানের দাবি, তার ভাই দীর্ঘদিন যাবৎ ‘সিজোফ্রেনিয়া’ নামে মানসিক রোগে আক্রান্ত। তার চিকিৎসা চলছে। আজ সকালে পরিবারের অগোচরে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে লোকমুখে শুনি, তাকে নাকি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে থানায় এসে এসব জানতে পারি। ও কোনো স্বাভাবিক অবস্থা থেকে এসব করেনি ।’
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন ও অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, “আটক যুবক মন্দিরে প্রবেশ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এবং পূজার আনুষঙ্গিক সরঞ্জামা- ফুল, ফল লাথি মেরে ফেলে দেয়। তাৎক্ষণিক পূজা কমিটির লোকজন তাকে আটক এবং মারধর করেন।”তিনি বলে, শরীরে জখম অবস্থায় তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। বর্তমানে সে থানা হেফাজতে আছে। আটক ব্যক্তির বিষয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।।
