এইদিন ওয়েবডেস্ক,কুষ্টিয়া,২২ আগস্ট : ধর্ম ব্যবসায়ীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সংসার বেঁধেছিলেন ভিন ধর্মাবলম্বী এক জুটি । এক সন্তানও আসে তাদের ৷ কিন্তু তাদের সেই সুখের সংসার বেশি দিন স্থায়ী হয়নি৷ কলকাতার বেসরকারি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনজনেরই মৃত্যু হয় । কিন্তু মৃতদেহ তিনটি দেশে নিয়ে যাওয়ার পর মহিলার শেষকৃত্য হিন্দু না মুসলিম রীতিতে হবে তা নিয়ে সৃষ্টি হয় জটিলতার । শেষ পর্যন্ত মৌলবাদীদের চাপে কুষ্টিয়া জেলার আডুয়াপাড়া রাজারহাটের মৃত মহিলা আফসানা সিম্মিনের দেহের সৎকার করা হল ইসলামী রীতিতে৷ যখন একই গ্রামের শ্মশানে তার স্বামী স্বর্ণশীষ দত্ত ও পুত্র সন্তানের দাহ করা হল । যে আফসানা সিম্মিনের জীবিত অবস্থায় তাকে তার প্রেমের পরিনতি থেকে বঞ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছিল ধর্ম ব্যবসায়ীরা, মৃত্যুর পর স্বামী-সন্তানের সাথে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে যেন তার সুদে-আসলে উসুল করে নিল তারা !
মৃতদেহগুলি বাংলাদেশে নিয়ে আসার পর ধর্মীয় কারণে এক অদ্ভুত বিভাজন দৃশ্যমান হয়েছে। বাবা দেবাশীষ দত্ত এবং পুত্র স্বর্ণশীষ দত্তের মৃতদেহ সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শ্মশানে দাহ করা হয়েছে। কিন্তু, আফসানা সিম্মিন মুসলিম ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তার মৃতদেহকে তার নিজ ধর্মীয় রীতি মেনে মাটি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, সমাজের নানা স্তরের মানুষ যখন ভিন্ন ধর্মের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক গড়েন, তখন মৃত্যুর পরেও তা ধর্মীয় বিভাজনের দেয়াল ভাঙতে পারে না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ধর্ম একটি অতীব সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় এই ধরণের পরিস্থিতিতে নানা ধরণের জটিলতা তৈরি হয়, যা মৃতদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধার মাঝেও একটি শূন্যতা থেকে যায়। ভিন্ন ধর্মের প্রেমের সম্পর্ক এবং বিয়ে এই রকমের জটিলতার জন্ম দিয়ে থাকে, যা ইহকাল ও পরকাল, উভয় ক্ষেত্রেই প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়। কুষ্টিয়া জেলার আডুয়াপাড়া রাজারহাটের দেবাশীষ দত্ত ও আফসানা সিম্মিনের শেষ যাত্রার এই ট্রাজিক পরিনতি মেনে নিতে পারছেন না শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষরা ।।
