এইদিন বিনোদন ডেস্ক,২২ আগস্ট : সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম গান গাওয়া বাধ্যতামূলক করার বিরোধিতা করে প্রয়াত প্রাক্তন ক্রিকেটর মনসুর আলী খান পতৌদির স্ত্রী তথা অভিনেত্রী আয়েশা সুলতানা ওরফে শর্মিলা ঠাকুর সমালোচনা করে বলেছেন, ‘যারা এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী, তাদের জন্য বন্দে মাতরম পাঠ করা কঠিন ।’ যে কারনে এই প্রবীণা অভিনেত্রীর তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য । গতকাল এবিষয়ে তিনি বলেন,’শর্মিলা ঠাকুরের পরিবার বৈদেশিক আক্রমণকারী ও মন্দির লুন্ঠনকারী বর্বর তৈমুরের নামে নিজের বংশধরদের নাম রেখেছেন অতএব বন্দেমাতরমের পুরো স্তবক গাওয়া নিয়ে এই মত স্বাভাবিক।’
এই বিতর্কের মাঝেই খবর আসছে যে আয়েশা সুলতানা ওরফে শর্মিলা ঠাকুরের পুত্রবধূ অভিনেত্রী করিনা কাপুর খানের স্ত্রী তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিতে চলেছেন । উল্লেখ্য,আয়েশা সুলতানা ওরফে শর্মিলা ঠাকুরের পুত্র সঈফ আলি খান ও কারিনা কাপুর খানের মধ্যে প্রেম হয় ‘তাশান’ ছবির সেটে । এই অভিনেতা জুটি ২০১২ সালের ১৬ই অক্টোবর বিয়ে করেন। ২০১৬ সালে তাদের প্রথম পুত্র তৈমুর আলি খানের জন্ম হয়। পাঁচ বছর পর, এই দম্পতির আরও একটি পুত্রসন্তান আসে, জেহ আলি খান। কিন্তু “তৈমুর” নামকরণ নিয়ে আজও বিতর্ক হয় ।
আসলে,কারিনা কাপুর খানের সাম্প্রতিক এক ঝলক দেখা যাওয়ার পর তাঁর গর্ভধারণের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। একটি ভাইরাল ভিডিওতে অভিনেত্রীকে তাঁর গাড়ির দিকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। বেবি বাম্পের মতো দেখতে কিছুর এক ঝলক দেখেই নেটিজেনরা ভাবতে শুরু করেন যে কারিনা সাইফ আলি খানের সঙ্গে তাঁর তৃতীয় সন্তানের মা হতে চলেছেন কিনা। তবে কয়েক ঘণ্টা পর, অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করে যে কারিনা গর্ভবতী নন। আর এখন, তাঁর ননদ সাবা পাটাউদি, বেবোর (প্রিয়জনেরা তাঁকে এই নামেই ডাকেন) গর্ভধারণের গুজব নিয়ে নীরবতা ভেঙেছেন। ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা একটি নোটে সাবা অবাক হয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যে, মানুষ কীভাবে ‘আরেকটি চরম’ ধারণা করতে পারে?’
নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সাবা পোস্টটি পুনরায় শেয়ার করেছেন।করিনা ছবিটি দেখে এক মন্তব্য করে তিনি লিখেছেন, “খারাপ অ্যাঙ্গেল… অথবা সেদিন চুলগুলো ঠিকঠাক ছিল না! সবাই কীভাবে এর থেকে অন্যরকম কিছু ভাবতে পারে!!” অভিনেত্রীর ননদ আরও জানান যে, কারিনাকে একটি বিমানবন্দর থেকে বেশ পরিপাটি, অভিজাত ও ছিপছিপে দেখাচ্ছিল এবং পরে তিনি একটি জিম থেকেও বেরিয়ে আসেন। “ব্যাস!!”
সাবা আরও জানান যে, তিনি তার বোন সোহা আলি খানকে দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করছেন এবং তিনি চান যেন এটা সত্যি হয়। পরিশেষে, সাবা মানুষকে ‘নিজে বাঁচো এবং অন্যকে বাঁচতে দাও’ নীতি অনুসরণ করতে বলেন। “কিছু বিষয় ব্যক্তিগতই থেকে যায়। কোনো জল্পনা-কল্পনার প্রয়োজন নেই। ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাসহ।”
ফিল্ম কম্প্যানিয়নকে দেওয়া একটি পুরোনো সাক্ষাৎকারে করিনা প্রকাশ করেন যে, তিনি সবসময় সাইফকে বলেন যে তিনি চান তাদের ছেলেরা দয়ালু হোক। তিনি বলেন, “আমি চাই ওরা তাই হোক। দয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ। আমি মনে করি, এটি একটি সুন্দর গুণ যা একজন ছেলে বা পুরুষের থাকতে পারে।” অভিনেত্রী আরও বলেন যে, আজকের পৃথিবীতে দয়া বিস্মৃত হয়েছে এবং এর খুব প্রয়োজন।
কারিনা কাপুর খানের কর্মক্ষেত্র
কাজের দিক থেকে, কারিনাকে শেষবার রোহিত শেঠির ‘ সিংঘম এগেইন’ -এ দেখা গিয়েছিল । অজয় দেবগন অভিনীত এই ছবিতে অভিনেত্রী অবনী চরিত্রে পুনরায় অভিনয় করেন। তার আসন্ন প্রজেক্ট হলো পৃথ্বীরাজ সুকুমারণের সাথে ‘ দায়রা ‘। এটি পরিচালনা করেছেন মেঘনা গুলজার এবং প্রযোজনা করেছে জংলি পিকচার্স ও পেন স্টুডিওস। ছবিটি ২০২৬ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
“তৈমুর” নামকরণে কেন বিতর্ক ?
কারন তৈমুর লঙ (১৩৩৬–১৪০৫) ছিলেন মধ্য এশিয়ার একজন কুখ্যাত ইসলামিক হানাদার । মঙ্গোল বংশোদ্ভূত বারলাস গোত্রের সন্তান তৈমুর লঙ বর্তমান উজবেকিস্তানের [শাহরিসাবজ] অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৩৯৮ সালের ডিসেম্বরে ভারত আক্রমণ করেন। তৈমুর ও তাঁর বাহিনীর নৃশংসতার অন্যতম ভয়াবহ প্রতীক ছিল কাটা মুণ্ডু বা নরকঙ্কালের মিনার তৈরি করা। অনেক স্থানে মানুষের মাথা কেটে স্তূপীকৃত করে মিনার বানিয়ে তিনি ত্রাস সৃষ্টি করতেন। ভারত ত্যাগের সময় ১৩৯৯ সালের শুরুতে মীরুট, হরিদ্বার ও পাঞ্জাবের বিভিন্ন শহরে তাঁর বাহিনী ব্যাপক গণহত্যা ও অগ্নিসংযোগ ঘটায়। নদীর তীরে তীর্থযাত্রী ও সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। এহেন এক নৃশংস বর্বর ইসলামি হানাদারের নামে সঈফ-করিনা তাদের সন্তানের নামকরণ করায় স্বভাবতই অধিকাংশ হিন্দু ক্ষুব্ধ । তার এই অভিনেতা দম্পতির তৃতীয় পুত্রের জন্মের গুজব নিয়ে তোলপাড় চলছে সোশ্যাল মিডিয়া ।।
