এইদিন ওয়েবডেস্ক,বারুইপুর,০৭ জুলাই : দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার বারুইপুরের সুর্যপুর চকে ১২ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ-খুনের পর থেকে গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে । ওইদিনই এক যুবককে সন্দেহের বশে একদল জনতা নির্মমভাবে পিটিয়ে খুন করে । যাকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী “মব লিঞ্চিং” বলেন । তার জের মিটতে না মিটতেই সোমবার প্রসেনজিৎ বিশ্বাস নামে এক ১৭ বছরের কিশোরকে বারুইপুর পালপাড়া ব্যাংক সংলগ্ন এলাকায় তিনজন মিলে তার গলাকেটে খুন করে বলে অভিযোগ । এর আগে সুর্যপুর চকে যে পুকুরে ওই কিশোরীর দেহ পাওয়া গিয়েছিল সেই পুকুর থেকেই কৃষ্ণকান্ত হালদার নামে এক ব্যক্তির গলাকাটা দেহ উদ্ধার হয় বলে জানা গেছে । সবথেকে উল্লেখযোগ্য যে তথ্য উঠে আসছে তা হলো, মৃত ব্যক্তির বাড়ি সূর্যপুর কাণ্ডে অভিযুক্ত একজনের বাড়ির পিছনেই।
জানা গেছে,সুর্যপুর চকের মৃত কিশোরী মুসলিম সম্প্রদায়ের হওয়ায় বিষয়টি সাম্প্রতিক রঙ নিয়েছে ৷ সিপিএম এই ঘটনাকে পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় রঙ দেওয়ার কারনে বারুইপুরের পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠছে । এই সমস্ত ঘটনা পরম্পার জন্য যার দিকে বেশি অভিযোগের আঙুল তোলা হচ্ছে, তিনি হলেন সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য ও বারুইপুর পশ্চিমে সিপিএম প্রার্থী লাহেক আলি । তাকে গ্রেপ্তারের দাবি তোলা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে । তার বিরুদ্ধে কিশোরীর মৃত্যুর পর হিংসা উসকে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে ।
জানা গেছে,প্রসেনজিৎ বিশ্বাস অত্যন্ত হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান । বাবা পেশায় ভ্যান চালক । ছেলেটি ভালো ফুটবল খেলত । পরিবারের সহায়তা করতে নবম শ্রেণীর পর পড়াশোনা ছেড়ে দেয় এবং ফুটবল খেলার উপার্জন সংসার চালানোর জন্য সে বাবার হাতে তুলে দিত । তিনদিন আগে ফুটবল খেলায় জিতে যায় প্রসেনজিৎ। এই নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। তারই জেরে সোমবার প্রসেনজিৎকে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে গেলে প্রসেনজিৎকে তিনজন মিলে গলার খুর চালিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ ।
এরপর বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালের সামনে রাস্তা অবরোধ করে এলাকার বাসিন্দারা । স্থানীয়দের অভিযোগ,প্রসেনজিতের গলা কাটার পর তাকে একদিকে যখন হাসপাতালে আনায় হয়,সেই সময় অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পুলিশ তিন অভিযুক্তকে থানা ভবনে নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে দেয় । খুনের ঘটনার অব্যবহিত পরে পুলিশের এই অতি সক্রিয়তার কারনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা । উত্তেজিত জনতা হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ । মৃতের দাদা বলেন,’পুলিশ এখানে আমাদের ভাই মরে গেছে অথচ তাঁকে দেখতেই দেয়নি । যাঁরা মার্ডার করল তাঁদেরও পুলিশ আটকে রেখেছে। বাচ্চা ছেলেকে কুপিয়ে খুন করেছে। বিচার চাই।’
বারুইপুরের এই ঘটনা পরম্পরায় সবচেয়ে চর্চিত নাম হল বারুইপুর পশ্চিমে সিপিএম নেতা লাহেক আলি । কারন সুর্যপুরে কিশোরীর ধর্ষণ-খুনের পর তার বিভিন্ন ভূমিকায় প্রশ্ন উঠছে । বিশেষ করে তিনি ঘটনাটি সরাসরি আরএসএস ও বিজেপিকে যুক্ত করে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে একের পর এক পোস্ট করেছিলেন যাতে হিংসা বাড়ে বলে অভিযোগ। অভিযোগ যে “How” এবং “The Awaz” নামে দুটি ফেসবুক পেজে এই সমস্ত পোস্ট করেন ।
এদিকে কিশোরীর ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় সোমবার পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। সোমবার দুই অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয় । বিচারক ধৃতদের পুলিশ হেফাজত মঞ্জুর করেন।
বারুইপুরে কিশোরীর মৃত্যুর পর একের পর এক হত্যার ঘটনায় পরিস্থিতি কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে । এই পরিস্থিতির মাঝেই সোমবার মৃতা কিশোরীর বাড়িতে যান সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী,শমীক লাহিড়ী, জেলা কমিটির সম্পাদক রতন বাগচী, লাহেক আলি, জেলা কমিটির সদস্য অশোক ভট্টাচার্য, এরিয়া কমিটির সম্পাদক সফিউদ্দিন খান সহ অনান্যরা ।।
