প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,০৭ নভেম্বর : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেখানো পথেই সাফাই কর্মীদের পা ধুইয়ে সংবর্ধনা দিয়ে নিজের জন্মদিন পালন করলেন রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র । শুধু পা ধুইয়ে দেওয়াই নয়, সাফাই কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি কেকও কাটেন।মন্ত্রীর কাছ থেকে এমন সন্মান ও ভালবাসা পেয়ে খুশি সাফাই কর্মীরা। শুক্রবার বর্ধমান শহরের টাউন হলে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাফাই কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এই অভিনব উপায়ে নিজের জন্মদিন পালন করেন মন্ত্রী । এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের জন্মদিনে শ্রমিকদের পা ধুইয়ে দিয়ে সন্মান জানিয়েছিলেন। মূলত প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের জন্মদিনেও একই পদ্ধতি অবলম্বন করলেন মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র ।
তিনি বলেন,“প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি তাঁর জন্মদিনে শ্রমিকদের পা ধুইয়ে দিয়ে সম্মান জানিয়ে ছিলেন। এই বিষয়টা আমার মনে দাগ কেটেছিল।আমি অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম।তাই মোদিজীর দেখানো পথ আঁকড়েই আমি এদিন বর্ধমান পৌরসভার সাফাই কর্মীদের সন্মান জানিয়ে আমার জন্মদিন পালন করলাম।” তাঁর কথায়, সাফাই কর্মীরা প্রতিদিন শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নিরলস পরিশ্রম করেন। অথচ তাঁদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার বদলে অনেক সময় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগই বেশি করা হয়। সমাজে তাঁদের অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়াও প্রয়োজন। আমি আমার জন্মদিনে ওনাদের সেই মর্যাদা দিতে পেরে খুবই তৃপ্ত হয়েছি।
মন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র এও জানান,২০২৬ বিধানসভা ভোটে তিনি প্রার্থী হওয়ার সময় থেকেই শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং গাছ লাগানোর ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন।বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক হওয়ার পর তিনি সাফাই কর্মীদের সঙ্গে পুকুর পরিষ্কারের কাজেও অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই তিনি সাফাই কর্মীদের জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং তাদের সম্মানের বিষয়গুলি নিয়ে তিনি ভাবনাচিন্তা শুরু করেন।মন্ত্রীর বক্তব্য, সাফাই কর্মীরাও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁরাও যোগ্য সম্মান ও মর্যাদার দাবিদার।
এদিকে মন্ত্রীর কাছ থেকে এমন সম্মান পেয়ে বেজায় খুশি সাফাই কর্মীরা। সাফাইকর্মী পারু মাঝি বলেন, “আমরা প্রতিদিন শহর পরিষ্কার রাখার জন্য কাজ করি। কিন্তু আমাদের কাজের স্বীকৃতি খুব একটা মেলে না। নিজের জন্মদিনে মন্ত্রী আমাদের পা ধুইয়ে সম্মান জানালেন। এতে আমরা খুবই খুশি। এমন সম্মান পেয়ে নিজেদের কাজের প্রতি আরও ভালো লাগা তৈরি হল।”অপর সাফাইকর্মী স্বপন কুমার দাস বলেন,“আমরা রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে শহর পরিষ্কার রাখি। অনেক সময় আমাদের কাজকে কেউ গুরুত্ব দেন না। কিন্তু মন্ত্রী যেভাবে আমাদের পাশে বসিয়ে সম্মান জানালেন, তাতে আমরা আপ্লুত। এই সম্মান আমাদের কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি।”
এদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজক সুধীর রঞ্জন সাউ জানান, “শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে সাফাই কর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ তাঁদের অবদান অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়। তাঁদের কাজের স্বীকৃতি ও সামাজিক মর্যাদা তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয় ।”

