এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,০৬ নভেম্বর : প্রেমের টানে বাবা-মা কে অস্বীকার করে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম প্রেমিককে বিয়ে করেছিলেন ১৮ বছরের এক হিন্দু তরুনী ৷ দীর্ঘ ১৪ বছর সংসার করেন৷ এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তাদের । বর্তমানে মহিলার বয়স ৩২ বছর৷ কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে স্বামীর অত্যাচার এতটাই তীব্র আকার ধারন করেছে যে, ওই মহিলা সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার সামনে বলেছেন : “আমি ভিক্ষা করে খাবো,তবুও আমি ওই ছেলের কাছ থেকে মুক্তি চাই ।” আন্তঃধর্ম বিবাহের এমনই এক করুন পরিনতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশের ফরিদপুরের ৩২ বছর বয়সী বৃষ্টি বিশ্বাস।
প্রায় ১৪ বছর আগে প্রতিবেশী ইব্রাহিম মোল্যার প্রেমের টানে পরিবার ও ধর্ম ত্যাগ করেছিলেন ফরিদপুরের বৃষ্টি বিশ্বাস৷ ধর্মান্তরিত হয়ে ইব্রাহিমকে বিয়ে করেন৷ বিয়ের পর ইব্রাহিম সৌদি আরব চলে যান। কিন্তু দেশে ফেরার পর তার আচরণে পরিবর্তন আসে। পরকীয়ার সন্দেহে এবং নানা কারণে বৃষ্টিকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ । ইতিমধ্যে স্বামী ইব্রাহিম মোল্যা আরও একটা বিয়ে করেছেন । তার তারপর থেকে বৃষ্টি বিশ্বাসের উপর তার স্বামীর নির্যাতন শুরু হয় বলে অভিযোগ ।
বৃষ্টি অভিযোগ করেছেন যে, দুই বছর আগে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এতে তার হাত ও বুকসহ শরীরের প্রায় ২৫ শতাংশ পুড়ে যায়। গত মাসের ২৯ তারিখে তার উপর হামলা করে তার স্বামী । তখন তার গলায় ক্ষতের সৃষ্টি হয়, যা আজও রয়ে গেছে । দুই সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও অসহায় অবস্থায় পড়েছেন বৃষ্টি বিশ্বাস, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন,’শ্বশুরবাড়ির লোক আমাকে এক কেজি চাল দিয়েও সাহায্য করে না । স্বামী বসে বসে খায়৷ আমি বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালাই ৷ তার উপর এই অত্যাচার আমি আর সহ্য করতে পারছি না । আমি বাড়ি বাড়ি কাজ করে খাবো,তবুও এখন আমি ওই ছেলের কাছ থেকে মুক্তি চাই ।’।

