প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,৩১ অক্টোবর : ত্রেতাযুগে শূর্পণখার নাক কেটেছিলেন শ্রীরামচন্দ্রের ছোট ভাই লক্ষ্মণ । তবে সেটা তরবারি দিয়ে । কিন্তু ঘোর কলিতে তরবারি নয়,নিজের শাশুড়ির কাটতে নিজের দু’পাটি দাঁত ব্যবহার করলেন বউমা ৷ এহেন চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার নাদনঘাট থানার অন্তর্গত পূর্বস্থলী-১ নম্বর ব্লকের সোনারুদ্র এলাকায় । ঘটনার পর হামলাকারী বউমা পূর্বা মঞ্জলকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়েছে পুলিশ । গুরুতর জখম শাশুড়ি চায়না মণ্ডল এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৷ যদিও অভিযুক্ত বউমার দাবি,শাশুড়ির অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি এই কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন । অভিযোগ করেন,আমার শাশুড়ি চায়না মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে আমার উপর অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছিলো। থানায় বধূ নির্যাতনের অভিযোগ দায়েরও করেছি । বৃহস্পতিবার শাশুড়ি বিনা কারণে আমার চুলের মুঠি ধরে মারছিল।’ তখন নিজেকে বাঁচাতে শাশুড়ির নাকে কামড় বসিয়ে দেন বলে পূর্বা মণ্ডল জানিয়েছেন ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনারুদ্র গ্রামের বাসিন্দা শাশুড়ি চায়না মণ্ডল ও বউমা পূর্বা মঞ্জলের মধ্যে অনেক দিন ধরেই বনিবনা হচ্ছিল না । প্রায়ই ঝামেলা লাগত তাদের । অশান্তি চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছয় গত বৃহস্পতিবার । চায়না মণ্ডলের ছেলে থাকলে সাধারণত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন । কিন্তু ওইদিন ছেলেও বাড়িতে ছিলেন না । আর তখনই চরম বাকবিতণ্ডার মধ্যে শাশুড়ি-বউমার মধ্যে হাতাহাতি লেগে যায়৷ সেই সময় পূর্বা মঞ্জল শাশুড়িকে ফেলে তার নাকে সজোরে কামড় বসিয়ে দেন । তিনি এতটা জোরে কামড় বসান যে চায়না মণ্ডলের নাক দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায় ।
জানা গেছে,চায়নাদেবী রক্তাক্ত অবস্থায় যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন । কাটা নাকের অংশ সহ তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় শ্রীরামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে সেখান থেকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তিনি বর্তমানে বর্ধমান হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন৷
এদিকে খবর পেয়ে তদন্তে নামে নাদনঘাট থানার পুলিশ । পুলিশ ওইদিনই চায়না মণ্ডলের পুত্রবধূ পূর্বা মণ্ডলকে গ্রপ্তার করে । আজ শুক্রবার তাকে কালনা মহকুমা আদালতে তোলা হলে জেল হেফাজতে পাঠানো হয় ।।

