এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,২৯ অক্টোবর : ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে কোনো দলই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি । বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ৮টি আসন দূরে রয়েছে । লিকুদ পার্টি অভিযোগ করেছে যে,বিদেশি অর্থায়নে আরব দলগুলো ইসরায়েলি নির্বাচন ‘চুরি’ করেছে ।
হিব্রু ভাষায় লেখা লিকুদ পার্টির বিবৃতি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করেছেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু । যার অনুবাদ হল : “রাআম-গেট” (Ra’am-gate) কেলেঙ্কারিটি একটি ভূমিকম্পের মতো। ইসরায়েলের নির্বাচন চুরি হয়ে গেছে! বিচারপতি সোলবার্গের মন্তব্য—যেখানে তিনি বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ এবং আরব দলগুলোর সুবিধার্থে ভোটারদের ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন—তা এক নজিরবিহীন আঘাত। এটি গণতন্ত্রের ওপর একটি আক্রমণ। এর লক্ষ্য হলো নেসেট (ইসরায়েলি পার্লামেন্ট)-এর ওপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, ইসরায়েলকে ইসলামীকরণের দিকে ঠেলে দেওয়া এবং ডানপন্থী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা। শেষ পর্যন্ত এটি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) পিছু হটা এবং সব ফ্রন্টে—বিশেষ করে ইরানের ক্ষেত্রে—তাদের পরাজয়ের দিকে নিয়ে যাবে।
যেহেতু এটি এখন স্পষ্ট যে বিদেশি শক্তিগুলো নেসেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, তাই এটিও পরিষ্কার যে কোনো জায়নবাদী দলেরই ‘রাআম’ (Ra’am) বা ‘জয়েন্ট লিস্ট’ (Joint List)-এর সঙ্গে সহযোগিতা করা উচিত নয়। অর্থের বিনিময়ে কেনা ভোটের মাধ্যমে নেসেট স্পিকারকে পরিবর্তন করা বা এমন কোনো সরকার গঠন করা উচিত নয় যা ইসরায়েলের জন্য বিপদ ডেকে আনে। আমরা এই অপরাধগুলোর তদন্তের জন্য শিন বেত (ISA) এবং ইসরায়েল পুলিশের হাতে থাকা সমস্ত উপায় কাজে লাগিয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
ইসরায়েলের নির্বাচনের ফলাফল বেশ কৌতূহলদ্দীপক । নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট: ৫৩টি আসন পেয়েছে৷ আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: ৪৭টি আসন এবং আরব মুসলিম দলসমূহ: ২০টি আসন পেয়েছে৷ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন ৷ বিরোধী পক্ষ নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জোরালো প্রচারণায় নেমেছিল।
ইসরায়েল এখন সম্ভাব্য রাজনৈতিক অচলাবস্থার মুখোমুখি। পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কে এবং কিভাবে অর্জন করবে ? এই প্রশ্ন উঠছে । আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট যদি আরবপন্থী দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে তাহলে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায় সেটিই দেখার বিষয় ।
এদিকে খবর আসছে যে,‘ইসরায়েল বেইতেনু’ দলের চেয়ারম্যান আভিগদোর লিবারম্যান গাদি আইজেনকোট ও নাফতালি বেনেটের ফোন ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন; তবে তাঁদের নির্বাচনী প্রচার দলগুলোর মধ্যে এখনো কিছুটা যোগাযোগ বজায় রয়েছে। চ্যানেল ১২-এর তথ্য অনুযায়ী, লিবারম্যান দুটি বিষয়ে কঠোর অবস্থানে অটল রয়েছেন। প্রথমতঃ, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে কোনো সরকার গঠন করা যাবে না এবং আরব দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল কোনো সংখ্যালঘু সরকারও মেনে নেওয়া হবে না। খবর অনুযায়ী, তিনি নিজে নেতানিয়াহুর সাথে কোনো জোট সরকারে যোগ দেওয়ার পরিবর্তে, আইজেনকোটকে এমন সরকারে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। এই প্রতিবেদন নিয়ে লিবারম্যান এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।।
