প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,২৭ আগষ্ট : রাজ্যের শাসকদলের একের পর এক নেতামন্ত্রীকে নিশানা করছে সাইবার অপরাধীরা । মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর পর এবার সাইবার অপরাধীদের কবলে পড়লেন পূর্ব বর্ধমানের রায়নার বিজেপি বিধায়ক সুভাষ পাত্র। হোয়াটসআ্যাপ হ্যাক করে বিভিন্ন জনের কাছে টাকা চেয়ে মেসেজও পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিধায়ক । এনিয়ে বর্ধমান সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি । পাশাপাশি তিনি সমাজ মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন ।
বিধায়ক সুভাষ পাত্র জানিয়েছেন,তিনি মঙ্গলবার একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। তখনই একের পর এক ফোন আসতে শুরু করে তাঁর কাছে।ফোনে পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন যে,তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ থেকে টাকা চেয়ে মেসেজ পাঠানো হচ্ছে।এমনটা জানার পরেই তিনি অনুষ্ঠান বাতিল করে সরাসরি বর্ধমান সাইবার থানায় যান এবং অভিযোগ দায়ের করেন ।
কিভাবে হ্যাক হল হোয়াটসঅ্যাপ ?
বিধায়ক সুভাষ পাত্র এই বিষয়ে জানান, দিল্লি থেকে চিঠি এসেছে বলে একটি অচেনা নম্বর থেকে তাঁর কাছে ফোন এসেছিল। চিঠি ডেলিভারির বিষয়ে জানতে ওই নম্বরে যোগাযোগ করার পরই তাঁর ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় বলে মনে করছেন তিনি । বিধায়ক এও বলেন,একজন ওই মেসেজ পেয়ে টাকা পাঠিয়েও দেন। বিষয়টি জানার পর তিনি নিজে সেই টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ফেরত দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
যাঁদের কাছে টাকা চেয়ে মেসেজ গিয়েছে, তাঁদের আতঙ্কিত বা বিভ্রান্ত না হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন সুভাষ পাত্র। তাঁর কথায়, তিনি কখনও এভাবে কারও কাছে টাকা চাননি। কারও কাছে অর্থের প্রয়োজন হলে তিনি নিজেই ফোন করে যোগাযোগ করতেন। তাই এই ধরনের মেসেজ পেলে কাউকে টাকা না পাঠানোর আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
অভিযুক্তদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানিয়ে বিধায়ক সুভাষ পাত্র সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন,অচেনা নম্বর থেকে আসা ফোন ও মেসেজের ব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে ৷ কোনও রকম সাইবার প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য,এর আগে রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করেছিল সাইবার অপরাধীরা । হ্যাকাররা একই কায়দায় ওই হোয়াটসআ্যাপ থেকে রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষামন্ত্রীর পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন জনের কাছে টাকা চেয়ে মেসেজও পাঠিয়ে ছিল। বিষয়টি জানতে পারার পর মন্ত্রী মশাইও বর্ধমান সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করে ছিলেন । কিন্তু একের পর নেতামন্ত্রীকে সাইবার অপরাধীরা নিশানা করায় জনমানসে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে ।।

