এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৪ অক্টোবর : চোরবাগান দুর্গামণ্ডপ বিপর্যয়ে দলীয় সমর্থকদের গ্রেফতারের প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুরে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার বসে পড়েন ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ । পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে তৃণমূল বিধায়ক থানার ভিতরে পৌঁছলে, সেখানে পিছু নেন বিজেপি কর্মীরা । পুলিশ তাঁদের থানার গেট থেকে সরে যেতে বললেও সেখানেই দাঁড়িয়ে চিৎকার শুরু করেন তাঁরা। তারই মাঝে সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে বাইট দিচ্ছিলেন কুণাল । সেই সময় এক এক বিজেপি কর্মী চিৎকার করে ওঠেন : “এই, চোর । এই, কুণাল চোর ।” আর একথা শুনে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন কুণাল । তিনি চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওই বিজেপি কর্মীর উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলেন : “এই, চোপ্ । তোর বাবাকে বলগা না, শা*লা ।” সেই মুহুর্তের ভিডিও ক্লিপটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে ।
পরে এই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুণাল লিখেছেন, ‘আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় যখন গেছিলাম ( এক তৃণমূল সহকর্মীকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে), তখন বিজেপির চার আনার কটা নকুলদানা হামলা করে স্লোগান দিচ্ছিল, ‘কুণাল ঘোষ ভারত ছোড়ো।’ অবাক হয়ে এক পুলিশ অফিসারকে বললাম,’ আমাকে কি বৃটিশ সেনা টাইপের দেখতে লাগছে?’বিজেপি তখন ছিল না। যাদের ইতিহাসে ‘ভারত ছোড়ো’ স্লোগানের রেকর্ড নেই, তাদের কটা নকুলদানা আজ আমাকে সেই স্লোগান দিল। বিপুল আমোদের আয়োজন! মনে রাখুন: চোরবাগানকান্ডে মাথাদের গ্রেপ্তার না করে পুলিশ প্রতিবাদীদের নানা ছুতোয় গ্রেপ্তার শুরু করেছে। আমি সেকারণেই থানায় গেছিলাম।’
উল্লেখ্য,২০২৩ সালের পুরনো একটি মামলায় শুক্রবার তৃণমূল কর্মী মাজিদ আনসারিকে গ্রেফতার করে জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ। ধৃতের দাবি, বিজেপির বিরুদ্ধে কথা বলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চোরবাগানের ঘটনার প্রতিবাদ করায় অপর এক তৃণমূল কর্মীকেও গ্রেফতার আটক করেছে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার পুলিশ। ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি করছেন কুণাল ঘোষ ।
গতকাল তিনি লিখেছিলেন,’চোরবাগানের ঘটনায় প্রভাবশালী যোগ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের যারা বিক্ষোভ দেখিয়েছে, প্রতিবাদ করছে; তাদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি, পুরনো বা সাজানো কেসে গ্রেপ্তার শুরু করেছে সরকার। জোড়াসাঁকো, আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা নেমে পড়েছে। এর তীব্র প্রতিবাদ করছি। চোরবাগানে মাথাদের ছেড়ে পুলিশ প্রতিবাদীদের কন্ঠরোধে নেমেছে।’
এরপর আজ শনিবার ফের তিনি লিখেছেন,’চোরবাগানে মৃত্যুমিছিলের পেছনে প্রভাবশালীদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করতে শুরু করেছে পুলিশ। মমতাদির সৈনিক মজিদ আর বর্ণকে ইতিমধ্যেই পুরনো অন্য মামলার নাম করে ধরা হয়েছে। এসব এখন বিজেপি আর পুলিশ চালিয়ে যাবে। তথ্য প্রমাণ ছাড়া স্রেফ মুখের কথা আর সাজানো সাক্ষী দেখিয়ে গ্রেপ্তার। এই সরকার এত বিধায়ক নিয়ে নাকি এত গরিষ্ঠ; তাহলে এত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে কেন? সক্রিয়দের নামে নানা কেস সাজিয়ে রাখছে। এর আগে শক্তিপ্রতাপ সিংকে অকারণ গ্রেপ্তার করেছে। আরও কর্মীরা বাংলাজুড়ে হয়রানির শিকার। আমাকে তো খুনের চেষ্টা হয়েছে। এইভাবে দমন পীড়ন দরকার হচ্ছে কেন?? ভয়টা বড় বেশি সামনে চলে আসছে।’।

